আব্দুর রাজ্জাকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বর্ষীয়ান রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জাতীয় নেতা প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত বছর ২৩ ডিসেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তার নির্বাচনী এলাকা ও জন্মস্থান ডামুড্যাসহ শরীয়তপুর জেলার ছয়টি উপজেলাতেই আওয়ামী লীগ সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে দোয়া ও কোরআনখানি, জীবনাদর্শ তুলে ধরে আলোচনা, স্মরণসভা প্রভৃতি। এদিকে আমাদের শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, আব্দুর রাজ্জাকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জেলার ৬৪টি ইউনিয়নে কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন, দোয়া-মাহফিল, গণভোজ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। আজ রবিবার সব উপজেলা সদরে এসব কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া আগামী ২৪ ডিসেম্বর সোমবার জেলা আওয়ামী লীগ শিল্পকলা মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করেছে। আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করার জন্য শরীয়তপুরবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আব্দুর রাজ্জাক ওই সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রী থাকাকালেই ১৯৯৭ সালে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে পঞ্চম জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। গত জোট সরকারের সময় অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান নবম জাতীয় সংসদে তিনি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহছায়ায় যে কয়জন কীর্তিমান স্বাধিকার, স্বাধীনতা আর সুমহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্যসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামনের কাতারে থেকে আমৃত্যু নেতৃত্ব দিয়েছেন, আবদুর রাজ্জাক তাদের অন্যতম। মহান এই নেতা মৃত্যুর আগে রাজপথে মিছিল, মিটিং, সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে জাতীয় দাবিতে পরিণত করেন।