চল যাই খুন করি

আব্দুল ওয়াদুদ আর আরমান মোল্লা। দু’জনের বয়সই ষোল থেকে আঠারোর মধ্যে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আবার দু’জনই বেকার। এদের মধ্যে সম্প্রতি ওয়াদুদ এক তরুণীর প্রেমে পড়ে। আর প্রেমিকার কাছে তার পরিচিতি সে ভাল চাকরি করে। কিন্তু কতদিন আর বাপের টাকা চুরি করে প্রেমিকার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব ? এ অবস্থায় মহল্লার একটি দোকানে বসে দু’বন্ধু শলাপরামর্শ করছিল, কীভাবে টাকা যোগাড় করা যায়। হঠাত্ ওয়াদুদের মাথায় আসে পূর্ব পরিচিত মহল্লার ভাড়াটিয়া তহুরা বেগমের কথা। তার স্বামী সৌদি প্রবাসী। তার বাসায় অনেক স্বর্ণ ও টাকা আছে। ওয়াদুদ তার বন্ধুকে প্রস্তাব দেয়, চল তহুরা বেগমকে খুন করি। সঙ্গে সঙ্গে আরমান রাজি হয়ে যায়। তারা জবাই করে হত্যা করে তহুরা বেগমকে। মর্মস্পশী এ ঘটনাটি রাজধানীর পল্লবী ধ ব্লকে। গত ৮ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে। পুলিশ ঘটনার ১৭ দিন পর হত্যার রহস্য উদঘাটন ও খুনী আরমান ও ওয়াদুদকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছে। নিহত তহুরা বেগমের স্বামী রফিকুল ইসলাম । সৌদি প্রবাসী। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা সদর থানায়। বাসা পল্লবী ধ ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়ি। পাঁচ তলার বাড়ির নীচ তলায় স্কুল পড়ুয়া মেয়ে ইশরাত জাহান ইশা ও এক বোনকে নিয়ে থাকতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পল্লবী থানা পুলিশ বাসার বেড রুম থেকে তহুরা বেগমের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় তহুরা বেগমের ছোট ভাই স্বপন মিয়া বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতেখার হোসেন বলেন, মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ এলাকার বিভিন্ন লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু হত্যার মোটিভ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। শেষটায় নিহত তহুরা বেগমের খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আরমান ও ওয়াদুদকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার কথা অকপটে স্বীকার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার সাব-ইন্সপেক্টর ইয়াসিন গাজী বলেন, আরমান ও ওয়াদুদ দু’জনইে বখাটে। আরমানের বাড়ি মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার সাখারপাড়, পিতা আব্দুল জলিল। আব্দুল ওয়াদুদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানার পশ্চিম রাজারগাঁও। পিতা আব্দুল মোতালেব। দু’জনেরই বাসা ই ব্লকে। তিনি বলেন,ওয়াদুদের পরিবারের সঙ্গে তহুরা বেগমের জানাশুনা ছিল। একারণে তহুরা বেগমের বাসায় ওয়াদুদের নিয়মিত যাতায়াতও ছিল। ঘটনার সময় বাসায় তহুরা বেগম একা ছিলেন। তার মেয়ে ইশা ছিল স্কুলে ও ছোট বোন ছিল তার কর্মস্থলে ( গার্মেন্টস)। জিজ্ঞাসাবাদে আরমান ও ওয়াদুদ জানায়, ঘটনার সময় ছিল দুপুর দেড়টা। এ সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে তহুরা বেগম মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। ওয়াদুদকে দেখে তিনি কথা শেষ করে তাদেরকে বাসার ভেতরে ডাকেন। নিজ হাতে দু’জনকে আপেল ও মালটোভা খেতে দেন। আর খাওয়া শেষ হবার পরপরই আরমান তহুরা বেগমের মুখ চেপে ধরে বিছানায় শুইয়ে দেয়। এরপর ওয়াদুদ তার বুকের উপর উঠে ছুরি দিয়ে জবাই করে। কিন্তু জবাই করার পর তারা রক্ত দেখে দিশেহারা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বেড রুমের খাটের পাশে রাখা তহুরা বেগমের ভ্যানটি ব্যাগ থেকে ১৬২০ টাকা ও তার মোবাইল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ইয়াসিন গাজী আরও বলেন, তহুরা বেগমের মুখ চেপে ধরার সময় আরমানের দু’টি আঙ্গুল তার মুখের ভেতর ঢুকে যায়। এ অবস্থায় তহুরা বেগম কামড় দিয়ে বাঁচারও চেষ্টা করেছিলেন। আর লুণ্ঠিত টাকা থেকে আরমান নিয়েছে ৬২০ টাকা আর ওয়াদুদ নিয়েছে এক হাজার টাকা। গত বৃহস্পতিবার ( ২০ ডিসেম্বর) আরমান ও ওয়াদুদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে ঐ দিন তাদেরকে পাঠানো হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।