খুলনা শিল্পাঞ্চলের ৮০ শতাংশ শ্রমিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে

খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-কারখানার প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। রূপসা নদের তীর, লবণচরা এবং এর আশপাশ এলাকার মত্স্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, ব্যক্তিমালিকানাধীন পাটকল ও রাইস মিল, ডকইয়ার্ডসহ নানা শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের অগ্নিকাণ্ডের সতর্কতার বিষয়ে ন্যূনতম ধারণা নেই। আগুন লাগলে করণীয় সম্পর্কে শ্রমিক-কর্মচারীদের কোনো প্রশিক্ষণও দেয়া হয়নি। কারখানাগুলোতে নেই নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং আন্ডার গ্রাউন্ড রিজার্ভার। ফায়ার সার্ভিসের এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স খুলনার আঞ্চলিক অফিসসূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের পর সারা দেশে পোশাক কারখানা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের শিল্প-কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি-সংক্রান্ত জরিপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খুলনায় কোনো গার্মেন্টস কারখানা না থাকায় অন্যান্য কল-কারখানায় এ জরিপ পরিচালিত হয়। গত ৩ ডিসেম্বর থেকে এখানে জরিপ কাজ শুরু হয়। সূত্র জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে রূপসা শিল্প অঞ্চলের ওহাব জুট মিল, মুন স্টার জুট মিল, গে¬ারি জুট মিল, সালাম জুট মিল, সেন্ট মার্টিন সি ফুড, রোজেন সি ফুড, ছবি ফিস প্রসেসিং, এশিয়ান সি ফুড, জেমিনি সি ফুড এবং পাঁচটি রাইস মিলে জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে কারখানাগুলোতে কর্মরত ৮০ শতাংশ শ্রমিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। জরিপের দায়িত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, কল-কারখানার শ্রমিকদের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি হ্রাসের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া বাধ্যতামূলক। অগ্নিকাণ্ডের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে পৃথক অ্যালার্মের ব্যবস্থা রাখতে হয়। ওই পাটকলগুলোতে কর্মরত শ্রমিকরা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। এছাড়া তাত্ক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত ফায়ার স্প্রে এক্সটিংগুইসার রাখার কথা। কারখানার ভেতরেও জরুরি পানি সরবরাহের লাইন বা হাইড্রেন থাকা বাধ্যতামূলক। কারখানায় পানির জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভারও রাখার কথা। পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে যে, এসব কারখানায় তা নেই। কিছু কারাখানায় ছোট আকৃতির অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় তাও খুব কম। সূত্র জানিয়েছে, মত্স্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে অ্যামোনিয়া গ্যাসে অসুস্থ হওয়া এবং জেনারেটর থেকে আগুনের ঝুঁকি রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত গ্যাস-মাস্ক ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কারখানাগুলোতে নেই। ফায়ার সার্ভিসের অপর পরিদর্শক মো. সাইফুজ্জামান জানান, কারখানাগুলোয় হাইড্রেন না থাকাটা সবচেয়ে বিপদের বিষয়। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির পানিতে প্রাথমিক অবস্থা কিছুটা সামলানো যায়। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা বেশি হলে নিয়ন্ত্রণের জন্য বাইরের উত্স থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। পরিদর্শনকালে কারখানাগুলোয় শ্রমিক ও মালিক কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স খুলনার উপপরিচালক মো. গোলাম রহমান বলেন, ‘জরিপের ফলাফল অনুযায়ী যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেই সেগুলোতে সংযোজনের জন্য শিগগিরই চিঠি দেয়া হবে। এছাড়া কর্তৃপক্ষ চাইলে শ্রমিকদের ঝুঁকি প্রশমনে প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থাও নেয়া হবে। চিঠি দেয়ার পর কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাও ফলোআপ করা হবে।’