বিরোধীদের মোকাবিলায় ১৪ দলের কৌশল
ফারাজী আজমল হোসেন ও সাইদুল ইসলাম
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৯
বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবেলা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ২৬ মার্চ পর্যন্ত রাজপথে থাকবে। বিরোধী দলের হরতাল, জ্বালাও পোড়াওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে মেকাবেলায় ১৪ দল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে জোটটি গণমিছিল, জনসভা, পথসভাসহ নানা ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালাবে। ১৪ দলের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিগত কিছুদিন ধরে বিএনপিসহ কয়েকটি দল রাজপথ গরম করার জন্য হরতালসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল রাজপথে অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিলো। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে শরিকদের নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর গত কয়েকদিনে ১৪ দলের নেতারা আন্দোলনের কৌশল বের করতে কয়েকটি বৈঠক করেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ১৪ দল আগামী ৭ জানুয়ারি রাজধানীসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য এবং ১৪ দলের সভার সমন্বয়কারী তোফায়েল আহমেদ ইত্তেফাককে গতকাল বলেছেন, বিরোধী দলের কর্মসূচির অর্থ হল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করা। কিন্তু এ বিচার বাধাগ্রস্ত করার শক্তি বা সামর্থ্য তাদের নেই। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশকে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু জনগণ তাদের এসব ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
উল্লেখ্য, সামনের দিনগুলোতে প্রধান বিরোধী দল বেশ কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গত ২৮ নভেম্বর ১৮ দলের সমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া এ কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—আজ রবিবার সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল, ২৬ ডিসেম্বর রাজধানীতে খালদা জিয়ার নেতৃত্বে গণমিছিল, ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শরিক দলগুলোর বিজয় দিবসের কর্মসূচি। ক্ষমতাসীন দল মনে করছে, এসব কর্মসূচির আড়ালে বিরোধী দল রাজপথ উত্তপ্ত করতে চাইছে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে জামায়াতের সাথে মিলে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে বলেও মনে করে ১৪ দল।
১৪ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সাথে কথা বললে তারা জানান, দীর্ঘদিন জোট কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকার পর যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা আবার সক্রিয় হয়েছি। কেউ যাতে এ বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ পর্যন্ত রাজপথ দখলে রাখবো আমরা। কারণ যে ২৩ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে ১৪ দল গঠিত হয়েছিল, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।
১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন ইত্তেফাককে বলেন, জোট চর্চা না করার কারণে আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলোম। আমরা মনে করি ১৪ দলকে সক্রিয় করেই বিরোধী দলীয় জোটের আন্দোলন মোকাবেলা করা সম্ভব।
১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক এবং শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলনকে সামনে রেখে ১৪ দলের নিয়মিত সভা হচ্ছে। এসব সভায় আমরা যুগপত্ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। তিনি বলেন, যারা মনে করেছিলো ১৪ দল একটি নির্বাচনী জোট তারা ভুল করছেন। মনে রাখতে হবে, ১৪ দল হচ্ছে কৌশলগত জোট। ২৩ দফার ভিত্তিতে এটি গঠিত হয়েছে।