স্মিথ কলেজ সমাবর্তন ২০১২
জেন লীন্চ
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৫৮
আমার নিজেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। শুভেচ্ছা রইল সবার প্রতি। আজ তোমরা এমন একটি সনদপত্র গ্রহণের জন্য এখানে সমবেত হয়েছ, যা তোমাদের জীবনের উচ্চস্তরে প্রবেশ এবং পরিবর্ধনের যোগ্যতা অর্জনকে প্রমাণ করে । ২০১২ সালের এইদিনে তোমরা এখানে বসে আছ; সম্প্র্রতি দৃষ্টি আর গাউন ও টুপিতে সজ্জিত হয়ে। ১৯৮২ সালে আমার স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা থেকে আমি যা অর্জন করেছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু তোমরা অর্জন করেছ।
আমার তরুণ সময়ে, আমি অনেক বেশি উদ্বেগ দ্বারা আক্রান্ত ছিলাম। ছাত্রজীবনের বেশিরভাগ সময় নষ্ট করেছি মস্তকহীন মুরগির মত ঘোরাঘুরি করে। পরিণতিতে আমার ডিপ্লোমা ডিগ্রি এবং সনদপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছিলাম। আমি জানি, তোমরা তেমনটি নও। তোমরা ‘স্মিথ’-এর ২০১২ বর্ষের ভিন্ন ঘরানার নারী; যারা প্রতিভাবান-সাবলীল-স্বাধীনচেতা-আত্মপ্রত্যয়ী। তোমাদের কাছে প্রত্যাশা, এই দিনটি তোমাদের কোনো কর্মযজ্ঞের ইতি টানবে না। বরং এগিয়ে যাবে, আরও বহুগুণ কর্মপ্রেরণা নিয়ে। এটাই তোমাদের জীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলবে। তবে, আজ তোমরা শান্তি এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস নাও, কেননা তোমরা অতিক্রম করেছ একটা গুরুত্বপূর্ণ পথ। যদি আমার জীবনের শুরুতে আরও বেশি কর্মঠ হতাম, তাহলে আজ আরও অনেক বেশি নিঃশ্বাস নেবার মত সময় পেতাম। কিন্তু, ঠিক আমার নাগালের মধ্যে যা ছিল তার দিকে আমি তাকাই নি; বরং আমি অনবরত খুঁজে বেড়িয়েছি অন্যকিছু; নিজের কাছে বার বার প্রশ্ন করেছি, ‘কী আছে এর পরে?’ ছোটবেলা থেকে নিজের অস্তিত্ব এবং বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবতাম। আমার মধ্যে বিচিত্র প্রশ্ন এসে জমা হতো। আর সবকিছুই খুব ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করতাম আমি। ২৭ বছর বয়সে একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণের আগ পর্যন্ত আমি এভাবেই চলেছিলাম। যখন আমি আমার জীবনকে একটা বিশাল ‘হ্যাঁ, এবং’- এর মাধ্যমে অভিনন্দন জানালাম। তখন নিজেকে খুঁজে পেতে শুরু করলাম। আজ তোমাদের আমি এই ‘হ্যাঁ, এবং’- এর গল্পই শোনাব, যার বেশিরভাগ অংশে থাকবে তোমরা আর ক্ষুদ্র অংশে আছি আমি।
‘হ্যাঁ, এবং’ (YES, AND) হল উদ্ভাবনার (Improvisation) গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। এখানে কখনোই তুমি তোমার সহকর্মী অভিনেতাকে নিষেধ করতে পার না। তোমাকে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতে হবে। তোমার সহকর্মী যে ধরনের ভূমিকা পালন করবে, তার গ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। অর্থাত্ সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে। ধরা যাক, আমি বললাম,‘আজ দিনটি বড়ই সুন্দর’। কিন্তু তুমি বললে ‘না, এটা শীতের মাঝামাঝি এবং বরফ পড়ছে।’ তখন দৃশ্যটিই মাটি হয়ে যাবে। আমরা একটা দোদুল্যমান সমস্যায় আক্রান্ত হব। এই সমস্যা উত্তরণের জন্য দৃশ্যে ‘হ্যাঁ’ অংশের সাথে ‘এবং’ অংশকে যুক্ত করতে হবে। যা ‘হ্যাঁ, এবং’ নীতিকে মেনে চলবে এবং দৃশ্যটি সফল হয়ে উঠবে। অর্থাত্ আমি বলতে চাইছি, ঠিক এই মুহূর্তে তোমার সামনে যা আছে, সেটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ কর; ভাল-মন্দ-রোমাঞ্চকর-দুঃখদায়ক যাই হোক না কেন, তোমাকেই সেই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হবে। এরমধ্যে থাকতে পারে ঘটনা-ব্যক্তি-বস্তু-স্থান; সবকিছুরই মুখোমুখি হবে তোমরা। এই মেঘলা কিংবা রোদেলা দিন নির্মাণের কোন ক্ষমতা তোমাদের হাতে নেই; তোমরা যা করতে পারো, তা হলো দিনটির মোকাবেলা করা। এই সমস্ত কথার অর্থ এই নয় যে, জীবনের প্রতিটি সুযোগকে তোমরা ‘হ্যাঁ, এবং’ দ্বারা পরিচালিত করবে। যতটা শক্তিমত্তার সাথে জীবনকে তোমরা মোকাবেলা করতে শিখবে, ততটাই তোমরা বুদ্ধিমত্তা অর্জন করবে নেতিবাচক সুযোগকে ‘না’ বলার জন্য। সততা এবং সঠিক বিবেচনাবোধের সাথে তোমরা উচ্চারণ করবে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’।
বক্তব্যের ইতি টেনে বলি, এখানকার অভিজ্ঞতা এবং পরম্পরা তোমরা কখনোই ভুলে যাবে না। আজকের এই দিনে আমি তোমাদের একজন হতে পেরে, আমার খুবই ভাল লাগছে। তোমাদের দিনটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে কাটুক এই কামনা করি।