আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নির্ধারিত সময়ে পরিশোধিত মূলধন জমা না দিলে লাইসেন্স বাতিল

চলতি বছরে যে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা করতে পারবে না তাদের লাইসেন্স বাতিল বা একীভূত করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএলএফসিএ) মনে করছে পরিশোধিত মূলধন সংরক্ষণ করার জন্য আরো কিছু সময় পাওয়া যাবে। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে বিএলএফসিএ’র সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৩১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়াও ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী, নাজনীন সুলতানা, নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. সোহরাওয়ার্দীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসকে সুর চৌধুরী বলেন, ১০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিশোধিত মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়নি। তবে এ ১০টির মধ্যে ৫ টি প্রতিষ্ঠান মূলধন সংগ্রহের জন্য রাইট শেয়ার বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ইস্যু করার জন্য সিকিউরিটি স্টক এক্সচেঞ্জে (এসইসি) আবেদন করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিজেদের স্বার্থে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন-১৯৯৩ অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স বাতিল বা একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্যটির একীভূত করা হতে পারে। এ বিষয়ে তাদের ভালো করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। ইতিমধ্যে ২৬টি প্রতিষ্ঠান তাদের পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা থেকে ১০০ কোটি টাকা সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে বিএএফসিএ-এর চেয়ারম্যান আসাদ খান বলেন, যে সমস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে পারেনি তাদেরকে আবারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে আরো বেশি সময় দেয়া হতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হলেও তাদের কাজ শেষ করতে বিশেষ করে এসইসির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আইপিও ইস্যু করতে হলে কমপক্ষে আগামী বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময় নমনীয় থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান পরিশোধিত মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি তাদের সঙ্গে আলাদা ভাবে (ওয়ান টু ওয়ান বেসিসে) পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন পর্যন্ত যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইপিওর জন্য আবেদন করেছে আইআইএফসি, এফএএস ফাইন্যান্স, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স ও বিএফআইসি। আর এখনো পর্যন্ত আইপিওর জন্য এসইসিতে আবেদন করেনি জিএসপি, বিআইএফসি, হজ্ব ফাইন্যান্স ও ফাস্ট লিজ। এদিকে মাইডাস আইপিওর জন্য অনুমোদন চাইলেও তারা লোকসানি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের আবেদন গ্রহণ করেনি এসইসি। ২০১১ সালের জুনের মধ্যে ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার নির্দেশনা ছিলো। এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিন দফা সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে। এখন যদি আর সময় না বাড়ানো হয় তাহলে বিএলএফসিএ-এর অবস্থান কি হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি সব প্রক্রিয়া শেষ করতে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সময় দেয়া হবে। গতকালের বৈঠকে ক্যামেল রেটিং গাইড লাইন, ক্যাপিটাল মার্কেটে মূলধনের ৪০ শতাংশ বিনিয়োগের অনুমোদন, জাইকা পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্প ও এ ফান্ডের অর্থ ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য কমপক্ষে দুই বছরের ঋণ দেয়া, এসএমই’র ক্ষেত্রে জেনারেল প্রভিশনিং এক শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করা, ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স এ্যাক্টের অগ্রগতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বল্প সময়ের জন্য আমানত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।