রঙ্গীন পোশাকে আর নয়
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫১
তাকে ঈশ্বর বলেই জানত ভারতীয় মানুষ—ক্রিকেট ঈশ্বর। অথচ সেই মানুষটিকেই গত কয়েক মাস ধরে সমালোচনার ছোবলে মাটিতে নামিয়ে এনেছিল সেই দেশেরই লোকজন। অবশেষে সেই সমালোচনার তোপে কিংবা নিজের ভেতর থেকে আসা তাড়নায় তিনি ‘বিদায়’ বলেই দিলেন।
না, সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন না। আগেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ছেড়ে দেয়া শচীন টেন্ডুলকার এবার বিদায় বলে দিলেন ওয়ানডে ক্রিকেটকে। তার মানে, আর কখনো বিশ্বকাপে ব্যাট উঁচু করতে দেখা যাবে না টেন্ডুলকারকে, আর কখনো রঙ্গীন পোশাক গায়ে চড়িয়ে মাঠে নামতে দেখা যাবে না টেন্ডুলকারকে। শেষ পর্যন্ত ২৩ বছর বয়সী ওয়ানডে ক্যারিয়ারটাকে বিদায় বলেই দিলেন সর্বকালের সর্বসেরা ক্রিকেটারদের একজন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার।
বিদায়ের ক্ষণে বিশাল অর্জনের তালিকা ঘুটে সবচেয়ে বড় করে দেখছেন গত বিশ্বকাপ জয়টাকে। বলছেন, নিজের জীবনটা ধন্য হয়ে গেছে এই বিশ্বকাপ স্পর্শ করতে পেরে। সেই সঙ্গে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ভারত যাতে প্রস্তুতি নিতে পারে, সে জন্যই তরুণদের জায়গা করে দিতে সরে গেলেন তিনি। সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ক্রিকেট খেলার ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে আমি অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। বিশ্বকাপজয়ী দলের অংশ থাকার ভেতর দিয়ে আমি আমার জীবনের স্বপ্নপূরণ করে ফেলেছি। নিজেকে ধন্য মনে হয় ভারতীয় দলের অংশ হতে পারায়। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য এখনই সময়। আমি ভারতীয় দলের সাফল্য কামনা করি। আমাকে যারা বছরের পর বছর সমর্থন দিয়ে এসেছেন, ভালোবেসেছেন; তাদের সবাইকে এই সময়ে ধন্যবাদ।’
এই ঘোষণার ভেতর থেকে ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হওয়া টেন্ডুলকারের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষ হল। এই ক্যারিয়ারে কী কী অর্জন করেছেন; স্রেফ তার তালিকা করতে বসলেই বিশাল গ্রন্থ তৈরি হয়ে যাবে। শুধুমাত্র ওয়ানডে ক্রিকেটেই স্পর্শ করা যায়, এমন কোনো রেকর্ড আর তিনি স্পর্শ করতে বাকী রাখেননি।
ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডেতে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। প্রথম ফিফটি পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৯টি ম্যাচ। ‘ভোর দেখে দিন অনুমান করা যায়’—এ কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করতেই যেন মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এরপর একটা একটা করে ধাপ পেরিয়েছেন। রেকর্ডের সিঁড়ি ভেঙেছেন। একটা সময় পর্যন্ত সেঞ্চুরি করায় তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ছিলেন সাঈদ আনোয়ার। সেই সাঈদ আনোয়ার থেকে শুরু করে অনেকেই ২০-এর নিচে থেমে গেছেন। কাল শচীন যখন অবসর নিলেন, নামের পাশে জ্বল জ্বল করছে ৪৯টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
এর মধ্যে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোয়ালিয়রে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পৃথিবীর প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেললেন। ততোদিনে শচীন টেন্ডুলকার অবশ্য ওয়ানডে ক্রিকেটে একটু অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। মূল লক্ষ্য ছিল গত বিশ্বকাপটা খেলা। সে জন্য বিশ্বকাপের আগের ১২ মাসে ক্লান্তিমুক্ত থাকতে মাত্র ১০টি ওয়ানডে খেলেছেন।
অবশেষে নিজের মাটিতে এলো বিশ্বকাপ। এর আগে ২০০৩ সালে, ১৯৯৬ সালে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেও স্পর্শ করতে পারেননি ট্রফি। এবার নিজেদের মাটির সেমিফাইনালে আর ফাইনালে পা ফসকালো না ভারতের। অবশেষে স্বপ্নের ট্রফি স্পর্শ করলেন। আর এই ট্রফি স্পর্শ করার পথে আরও দুই দুটো সেঞ্চুরি করে ফেললেন। আরেকবার প্রমাণ করে দিলেন তিনি কোন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নিজেকে।
এরপরও খানিকটা অপেক্ষা ছিল। অপেক্ষা ছিল শততম সেঞ্চুরির এবং আরেকটা ট্রফির। সেই নেশাতেই ঢাকায় এশিয়া কাপে এসেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের অসাধারণ পারফরম্যান্স আরেকটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠতে দিল না ভারতকে। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষেই ওয়ানডে সেঞ্চুরির ভেতর দিয়ে করে ফেললেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শততম সেঞ্চুরি। টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে এমন বিস্ময়কর কল্পনাও কারো পক্ষে করা কঠিন।
সে সময় অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন সেই ম্যাচের পর অবসর নিয়ে ফেলবেন শচীন টেন্ডুলকার। কেন যেন, সিদ্ধান্তটা নিলেন না তিনি। এরপর টেস্টে পারফরম্যান্স ভালো হল না। সমালোচনার পারদ উঁচু হতে থাকল। এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষে আচমকা বলে দিলেন—বিদায়!
এই বিদায়ে ক্রিকেট কী হারালো সে বলে শেষ করার নয়। শুধু সংক্ষেপে একবার পেছন ফিরে দেখা যেতে পারে, টেন্ডুলকার নামের পাশে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে কি কি নিয়ে গেলেন। ওয়ানডে ক্রিকেটের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন, সবচেয়ে বেশি ইনিংস ব্যাট করেছেন, সবচেয়ে বেশি ম্যাচে ওপেন করেছেন, সবচেয়ে বেশি রান করেছেন, সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করেছেন, সবচেয়ে বেশি ফিফটি করেছেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান তার, সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি তার, এক আসরে সবচেয়ে বেশি রান তার। ছয় বার ২০০ রানের ওপরে জুটি করেছেন, শতাধিক ক্যাচ নিয়েছেন, দেড় শতাধিক উইকেট নিয়েছেন।
থাক, কী দরকার এতোসব পরিসংখ্যানের গল্প শোনা। শচীন টেন্ডুলকারের গ্রেটনেস এসব পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বড়।
পরিসংখ্যানে ওয়ানডের টেন্ডুলকার
ম্যাচ: ৪৬৩
জয়: ২৩৪
পরাজয়: ২০০
টাই: ৫
পরিত্যক্ত: ২৪
ব্যাটিং
ইনিংস: ৪৫২
অপরাজিত: ৪১
রান: ১৮৪২৬
সর্বোচ্চ: ২০০*
গড়: ৪৪.৮৩
সেঞ্চুরি: ৪৯
ফিফটি: ৬৬
ক্যাচ: ১১৪
চার: ২০১৬
ছয়: ৬৭
বোলিং
ইনিংস: ২৭০
বল: ৮০৫৪
রান: ৬৮৫০
উইকেট: ১৫৪
ইনিংস সেরা: ৫/৩২
গড়: ৪৪.৪৮
ইকনমি: ৫.১০
৫ উইকেট: ২ বার
সেঞ্চুরির খতিয়ান
প্রতিপক্ষ সেঞ্চুরি
শ্রীলঙ্কা ৮
অস্ট্রেলিয়া ৯
ইংল্যান্ড ২
বাংলাদেশ ১
উইন্ডিজ ৪
পাকিস্তান ৫
নিউজিল্যান্ড ৫
দ. আফ্রিকা ৫
কেনিয়া ৪
জিম্বাবুয়ে ৪
নামিবিয়া ১
টেন্ডুলকারের টুকরো স্মৃতি
টেন্ডুলকার হতে চেয়েছিলেন একজন ফাস্ট বোলার। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট ডেনিস লিলি চেন্নাইয়ে এম আর এফ পেস একাডেমীতে ১৯৮৭ সালে টেন্ডুলকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
উপমহাদেশে ১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ছিলেন একজন বলবয়।
ইন্টার স্কুলের একটি প্রতিযোগিতায় ১৯৮৮ সালে ভারতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় বিনোদ কাম্বলির সঙ্গে ৬৬৪ রানের পার্টনারশীপ গড়েন টেন্ডুলকার। যার মধ্যে টেন্ডুলকারের অবদান ছিল ৩২৬ রান।
ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সী ভারতীয় ক্রিকেটার তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯৯২ সালে কাউন্টি দল ইয়র্কশায়ারের প্রথম বিদেশি খেলোযাড়ও তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণীর বড় তিনটি রনজি ট্রফি, দুলীপ ট্রফি এবং ইরানি কাপ প্রতিযোগিতাই অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন টেন্ডুলকার।
তার প্রিয় ক্রীড়া তারকা কোন ক্রিকেটার নয়। টেনিস তারকা জন ম্যাকেনরো।
পুরো খেলোয়াড়ী জীবনে প্রায় ১.৫ কেজি ওজনের ভারী ব্যাট দিয়ে ব্যাটিং করেছেন।
ভারতের কিংবদন্তী ওপেনার সুনীল গাভাস্কারের উপহার দেয়া প্যাড পরে করাচিতে অভিষেক টেস্টে ব্যাট করেন তিনি।
বয়স ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পাঁচটি টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
ওয়ানডে ক্রিকেট সেরা বছর ১৯৮৮ সাল। এ বছর ৯টি সেঞ্চুরিসহ মোট ১৮৯৪ রান করেন।
২০১২ সালে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত হন। - বাসস
তাহার যতো বিশ্বরেকর্ড
সর্বোচ্চ ম্যাচ—৪৬৩
সবচেয়ে বেশি ইনিংস ব্যাটিং—৪৫২
সর্বোচ্চ রান—১৮৪২৬
সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি—৪৯
টানা সর্বোচ্চ ম্যাচ—১৮৫
সবচেয়ে বেশিবার ইনিংস শুরু—৩৪০
সর্বাধিক স্টেডিয়ামে খেলা—৯০টি
প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান (২০০* বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা)
একমাত্র খেলোয়াড় হিসাবে ১৪ হাজার বা তার ওপরের রান
প্রথম খেলোয়াড় হিসাবে ১০ থেকে ১৮ হাজার রানের মাইল ফলক স্পর্শ
দুটি ভিন্ন ভিন্ন দলের বিপক্ষে ৩ হাজার রান করা একমাত্র ব্যাটসম্যান
এক বর্ষপঞ্জিতে সর্বোচ্চ রান—১৮৯৪ (১৯৯৮)
এক বর্ষপঞ্জিতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি—৯টি (১৯৯৮)
উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রানের অংশীদার—৬,৬০৬ (সঙ্গী সৌরভ গাঙ্গুলি)
উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি-পার্টনারশিপের অংশীদার—২১টি (সঙ্গী সৌরভ গাঙ্গুলি)
যেকোন উইকেটের জন্য সর্বোচ্চ রানের জুটির অংশীদার—৩য় উইকেটে ৩৩১ (সঙ্গী রাহুল দ্রাবিড়, বনাম নিউজিল্যান্ড)
সবচেয়ে বেশিবার ২০০ রানের জুটিতে অংশীদার হওয়া—৬ বার
বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান—১৭৯৬
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি—৪টি
এক বিশ্বকাপ আসরের সর্বোচ্চ রান—৬৭৩ (২০০৩)
একাধিক বিশ্বকাপের আসর-সেরা রান সংগ্রাহক—১৯৯৬ ও ২০০৩
সর্বোচ্চ ম্যান অব দ্য ম্যাচ—৬২
৩টি দেশের বিপক্ষে ওয়ানডের সর্বোচ্চ রান—অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকা
ক্রীড়াঙ্গন বলছে
‘আমি মনে করি, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটা ওর খেলা উচিত ছিল। কিন্তু এটা তার সিদ্ধান্ত এবং ওর সিদ্ধান্তই ঠিক। একটা সন্দেহ তো ছিলই, ওর ওয়ানডে ক্রিকেট আর খেলা উচিত কি না, তা নিয়ে। তাই আমি এ সিদ্ধান্তে বিস্মিত হইনি। আমি জানি, তার ওপর নির্বাচকদের কোনো চাপ ছিল না। এটা তার সিদ্ধান্ত। টেন্ডুলকারকে কারো বাদ দেয়ার অধিকার নেই’
-সৌরভ গাঙ্গুলি, সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক
‘আমি ওর এই সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছি। সেই সঙ্গে আরেকবার মহা বিস্ময়ের সঙ্গে মুগ্ধ হয়ে অনুভব করেছি, খেলাটার এই ফরম্যাটকে সে কোথায় নিয়ে রেখে গেল! আমি নিশ্চিত টেস্টেও এরকম একটা উচ্চতা থেকে বিদায় নেবে সে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সে সবসময়ই ভালো খেলে। এবারও টেস্টে আশা করি ভালো খেলবে’
—কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত, সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক
‘আমি বেশ অবাক হয়েছি। আমি মনে করি, টেস্ট ছেড়ে ওর বরং ওয়ানডেই খেলে যাওয়া উচিত ছিল। ওয়ানডেতে সে যতো ভালো আন্তর্জাতিক বোলারদের চেনে এবং ভালো মোকাবিলা করে; তা কেউ করে না। ফলে ও ওয়ানডে ছেড়ে দেয়াটায় অবাক হয়েছি। টেস্ট খেলুক আর নাই খেলুক; ওয়ানডে খেলা উচিত ছিল টেন্ডুলকারের’
—দিলীপ ভেঙসরকার
‘মাস্টার্সের বিদায়! ৪৬৩ ম্যাচ, ২৩ বছর, ১৮৪২৬ রান!!! এই সব সংখ্যার ধারে কাছেও কোনো মানুষ আর কখনো যেতে পারবে না। একজন গ্রেট ব্যাটসম্যান, গ্রেট মানুষ, গ্রেট বন্ধু... যার দিকে চেয়ে থাকা যায়। ভারতের সত্যিকারের গর্বের সম্পদ। স্যালুট শচীন, স্যালুট!’
—হরভজন সিং, ভারতীয় স্পিনার
‘আমি মনে করি খেলোয়াড়ী জীবনের মতো অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েও সে ভারতকে ধন্য করেছে। ক্রিকেট-ঈশ্বর অবশেষে সিদ্ধান্ত নিল! সবাই বলছিল, তার অবসর করা উচিত। আমিও মনে করি, একজন খেলোয়াড়ের নিজের ভালো-মন্দ বুঝে অবসরের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। আমি খুশি যে, সে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা নিতে পেরেছে।’
—কীর্তি আজাদ, সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার
‘বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা হচ্ছিল, ওর অবসর গ্রহণ করা উচিত। ও নিশ্চয়ই ভেবেছে যে, পাঁচদিনের ফরম্যাটে সে এখনও ভালো করবে। তাই টেস্ট থেকে অবসর নেয়নি। নিজের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন সেরা মানুষটা টেন্ডুলকারই।’
—বাপু নাদকার্নি, সাবেক ভারতীয় স্পিনার
‘২৩ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পর, এতো এতো অর্জন করার পর ওয়ানডে ক্রিকেট আর তাকে রোমাঞ্চিত করার কথা নয়। বিশ্বকাপ জেতার পর তার এই সিদ্ধান্তের যুক্তিটা বোঝাই যায়।’
—রমিজ রাজা, সাবেক পাকিস্তানী অধিনায়ক
‘সত্যিকারের এক মহা তারকা ওয়ানডে ক্রিকেটে তার জ্বলজ্বলে ক্যারিয়ার শেষ করলেন। ক্রিকেটকে এতো অসাধারণ সব কীর্তি উপহার দিয়ে যাওয়ায় অভিনন্দন। অভিনন্দন, শচীন টেন্ডুলকার’
—হাশিম আমলা, দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান