কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হুক্কা
আব্দুর রউফ রিপন, রানিনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫২
একসময়ের জনপ্রিয় ধূমপানের মাধ্যম হুক্কা খাওয়ার প্রচলন কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে। আজ থেকে তিন-চার দশক আগেও আবহমান বাংলার ধূমপায়ীরা হুক্কার মাধ্যমে তামাক পানের নেশায় অভ্যস্ত ছিল । উঠতি বয়সের যুবক থেকে শুরু করে বয়স্ক, বিত্তবান, ধনী ও দরিদ্র অনেকের বাড়িতেই হুক্কার প্রচলন ছিল। আগেকার সময়ের রাজা, জমিদারসহ বিত্তবানদের ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল এই হুক্কা। গ্রামের বৈঠকখানাগুলোতে পালাক্রমে হুক্কা টানতো বিভিন্ন বয়সের পুরুষরা। বিত্তবানদের বাড়িতে ছিল নলের হুক্কা। চেয়ারে গা এলিয়ে আয়েশী ভঙ্গিতে গৃহকর্তা যখন নলের পাইপে মুখ দিয়ে টান দিতেন তখন এ দৃশ্য চেয়ে দেখতেন বৈঠকখানায় আগত মানুষরা। পাতা টুকরো টুকরো করে কেটে এতে চিটাগুড় মিশ্রিত করে তৈরি হতো হুক্কার প্রধান উপাদান তামুক। আর এতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নিঃসরিত ধোঁয়া হুক্কার তলানির পানিতে ডুবিয়ে “কুড়ুত কুড়ুত”শব্দ বের হয়ে আসতো। বর্তমানে সেই চিরাচরিত দৃশ্যটি খুব একটা দেখা যায় না বললেই চলে। কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে সেই ঐতিহ্যের অনেকটাই। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হুক্কা খাওয়া তো দূরের কথা চোখেই দেখেনি। হুক্কার জায়গা দখল করে নিয়েছে বিড়ি, সিগারেট, হুইস্কি, হেরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ অন্য মাদকদ্রব্য। যার মধ্যে ক্ষতিকর নিকোটিন রয়েছে। তার পরেও এই মরণ নেশায় নতুন করে জড়িয়ে পড়েছে উঠতি বয়সের লক্ষ লক্ষ যুবক। এ প্রসঙ্গে উপজেলার হরিশপুর গ্রামের শ্রী কাঞ্চি রামপাল বলেন, হুক্কা টানলে দু’টি উপকার হয়। একটি অর্থনৈতিক সাশ্রয়। মাত্র ১০ টাকার তামাক কিনলে ১৫/২০ দিন হুক্কা টানা যায়। দ্বিতীয়ত, হুক্কা টানায় কাশি হয় না।