অর্থাভাবে বীরাঙ্গনার চিকিত্সা হচ্ছে না

বীরাঙ্গনা মর্জিনা বেগমের (৫৮) দিন কাটে এখন খেয়ে না খেয়ে। নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হলেও প্রাথমিক চিকিত্সা হচ্ছে না। একাত্তরে মর্জিনা বেগমের বয়স ছিল ১৭ বছর। গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার ভাটিয়াপাড়ায় ছিল পাকিস্তানি আর্মির শক্ত ঘাঁটি। পাশের গ্রাম শংকরপাশায় ছিল বসতবাড়ি। দুই বোন ও বাবা-মাসহ চারজনের তাদের সংসার। তিনি জানান, মে মাসে আর্মিরা তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। একজন আর্মি তাকে রান্নাঘরে নিয়ে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। কয়েকদিন পর ঐ গ্রামের রাজ্জাক মোল্লার বাড়িতে তাকে ধরে নিয়ে দু’জন আর্মি আবারো ধর্ষণ করে। মধুমতীর ভাঙনে তাদের শংকরপাশার বাড়ি নদীতে চলে যায়। ১২-১৩ বছর ভাটিয়াপাড়ায় সরকারি রাস্তার পাশে বসবাস করেছেন মর্জিনা বেগম। বর্তমানে লোহাগড়া উপজেলার চরকালনা গ্রামে খাস জমিতে একটি ঘর তুলে মর্জিনা তার মা অলেকা বেগমকে (৮০) নিয়ে বসবাস করছেন। তার কোনো জমিজমা নেই। নেই কোনো আয়। রিক্সাচালক স্বামী মারা গেছেন বিশ বছর আগে। দুই ছেলে ও এক মেয়ের সবাই বিয়ে করেছেন। দিনমজুর ছেলেরা আলাদা সংসার করছে। পরের বাড়ি কাজ করে দিন চলে মর্জিনার। তিনি বলেন, শরীরে এখন শক্তি নেই। কাজ করতে পারি না। তাই সবদিন খাবার জোটে না। টাকার অভাবে চিকিত্সা নিতে পারি না। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মফিজুল হক জানান, এতদিনে তার বীরাঙ্গনা তালিকাভুক্ত হওয়া উচিত ছিল। সে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। তাই তাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হতে চেষ্টা চালাব।