জেঁকে বসেছে শীত

শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় জেঁকে বসেছে শীত। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ শীতে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে হাড় কাঁপানো না হলেও সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীতেও অনুভূত হচ্ছে তীব্র শীত। দিনের বেলায়ও শীতবস্ত্র পড়ে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হচ্ছে বেশি। গত কয়েকদিনে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। আবহাওয়া বিভাগের কর্তব্যরত কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, আমরা যেভাবে শৈত্যপ্রবাহকে সংজ্ঞায়িত করি এখন পরিস্থিতি তার থেকে ভিন্ন। রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ২ ডিগ্রির কাছাকাছি এসে ঠেকেছে। ইশ্বরদিতে এই ব্যবধান মাত্র তিন। এসব অঞ্চলে রাতে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। দিনে ঘন কুয়াশায় কারণে সূর্যের তাপ না পাওয়ায় তাপমাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌছাচ্ছে না। সে কারণে মানুষ তীব্র শীত অনুভব করছে। গতকাল রবিবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১৪ দশমিক ২ ও ১১ দশমকি ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ইশ্বরদীতে ছিল ১৫ ও ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া বিভাগ থেকে আরও বলা হয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের আকাশে ঘন কুয়াশার আস্তরণ সৃষ্টি হয়েছে। তার একটি অংশ দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকলেও সেটি মেঘে পরিণত হতে পারছে না। ফলে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়তে পারছে না। বৃষ্টির মতো শিশির ! রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীতে তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও শীত কমেনি। ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডা বাতাসে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল রবিবারও সারাদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। বৃষ্টির মতো শিশির পড়েছে। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে মানুষ ও প্রাণিকূল ঠ্ক ঠ্ক করে কাঁপছে। শীতবস্ত্রের অভাবে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের লোকজন কষ্ট পাচ্ছে। এসব লোকজন পাড়া, মহল্লা ও রাস্তার ধারে রাত-দিন খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শীত দূর করার চেষ্টা করছে। কুয়াশার কারণে সড়কে সারাদিন যানবাহন চলেছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। শীত জেঁকে বসায় রেলস্টেশনের কাছের ও সাহেব বাজার এলাকার ফুটপাতে গভীর রাত পর্যন্ত শীতের পুরোনো কাপড়ের দোকানে ভিড় করেন শীতার্ত মানুষেরা। লেপ-তোশকের দোকানেও ভিড় বেড়েছে। এক ব্যক্তির মৃত্যু মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, শীতে এ পর্যন্ত এ উপজেলায় ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার ঝলঝলিয়া গ্রামের নূরুদ্দিন মন্ডল (৬০) কোল্ডস্ট্রোকে মারা যান বলে তার পারিবারিক সূত্র জানায়। বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত গঙ্গাচড়া সংবাদদাতা জানান, অব্যাহত শীত ও ঘন কুয়াশায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বোরো বীজতলার চারা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। বীজতলার চারা হলুদ ও বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। অনেক জমিতে চারা গজায়নি। এদিকে শীত ও কুয়াশার কারণে আলু ক্ষেতে মড়ক দেখা দেয় কিনা- তা নিয়ে কৃষকরা আতংকে রয়েছে। অনেকে মড়ক ঠেকাতে আলু ক্ষেতে ছত্রাকনাশক সেপ্র করছেন বলে জানা গেছে। সূর্যের দেখা নেই তিন দিন ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানিয়েছেন, হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়েছে ঈশ্বরদীর মানুষ। শনি ও রবিবার সন্ধ্যার পর হতে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির মতো শিশির ঝরতে থাকে। গত ৩ দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। ঘন কুয়াশার কারণে কাছ থেকেও কাউকে দেখা যায় না। শীতের তীব্রতায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। শিশু, বৃদ্ধসহ অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যায় জনশূন্য বাজার-হাট ! কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে কাউখালীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যায়ই বাজার-হাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা আশংকাজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তীব্র শীতে মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুপাখিও কাবু হয়ে পড়েছে।