বিচারে দীর্ঘসূত্রতার জন্য দুর্নীতিপরায়ণদের শাস্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না

দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, পদ্মা সেতু হওয়ার আগেই দুর্নীতি ধরা পড়েছে। যার ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসানকেও আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরো বলেন, দুর্নীতির বিচার কখনও তামাদি হয় না। দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিপরায়ণদের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দুর্নীতির মামলা নিষ্পত্তির একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল রবিবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় দুদক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। তিনি তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে আরো সচেষ্ট হওয়ার ওপর জোর দেন। জেলা প্রশাসক মনিন্দ্র কিশোর মজুমদারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বিজিত কুমার ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল ওয়াদুদ, হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশনের অধ্যক্ষ প্রদীপ্ত খিসা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমেদ, কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক গোপাল চন্দ্র দাস, চুনারুঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল আলম প্রমুখ। উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতি বন্ধ করা খুবই জরুরি মন্তব্য করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে জীবনমানের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অগ্রগতির প্রধান অন্তরায়। তাই দুর্নীতি দমনে আমাদের সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি সমাজে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যমসহ সকল স্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। তথ্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং ই টেন্ডারিং দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে তিনি জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাথে সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে মতবিনিময় করেন।