উত্পাদন খরচও উঠছে না বড়াইগ্রামে রসুন চাষে অনাগ্রহ বৃদ্ধি
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৯
নাটোরের বড়াইগ্রামে গত মৌসুমসহ কয়েক বছর যাবত্ উত্পাদিত রসুন বিক্রি করে চাষীদের উত্পাদন খরচই উঠছে না। এতে এ এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল রসুন আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কৃষকরা। এ কারণে চলতি মৌসুমে উপজেলায় রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছর বড়াইগ্রামে মোট ৭ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে রসুনের চাষ হয়েছিল। এবার সমপরিমাণ জমিতে রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও মাত্র ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছে; যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ১৮৩০ হেক্টর কম। রয়না গ্রামের রসুন চাষী আবু বকর মন্ডল জানান, প্রতিবিঘা জমিতে রসুন চাষে শ্রমিক খরচ, বীজ, রাসায়নিক সার ও সেচ বাবদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ পড়ে। বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে রসুন আমদানি করায় বিগত কয়েক মৌসুমে রসুনের ন্যায্য দাম পায়নি কৃষকরা। এবছর ৫০০-১০০০ টাকা মণদরে বিঘা প্রতি উত্পাদিত রসুন সর্বাধিক ১৬-১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বিঘা প্রতি কৃষকের ১২-১৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। ফলে রসুনচাষীরা হতাশ। তাই এবার চাষীরা রসুন আবাদের পরিবর্তে অন্যান্য ফসল চাষে ঝুঁকছেন।
জালশুকা গ্রামের মাহবুবুর রহমান মবু জানান, গতবছর আমি ৮ বিঘা জমিতে রসুন আবাদ করেছিলাম। কিন্তু উত্পাদিত রসুন বিক্রি করে লাভের পরিবর্তে আমার প্রায় লক্ষাধিক টাকা লোকসান হয়েছে। তাই এবার মাত্র ৪ বিঘা জমিতে রসুন লাগিয়েছি। বাজিতপুর গ্রামের জসীমউদ্দিন জানান, গত মওসুমে দাম কম থাকায় রসুন বিক্রি করতে পারিনি। ঘরেই পড়ে রয়েছে। আবার জমিও পতিত থাকে। তাই জমি ফেলে না রেখে রসুন বীজ রোপণ করেছি। যদি দাম বাড়ে তাহলে খরচ উঠবে, না হলে আর কিছু করার নেই। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, ১৯৯৫-১৯৯৬ সাল থেকে এ এলাকার চাষীরা নিজেদের উদ্ভাবিত বিনা হালে রসুন চাষ করে আসছেন। সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে নরম জমিতে বিনা চাষে রসুনের কোয়া (বীজ) লাগানো হয়। এজন্য প্রচলিত নিয়মে জমি চাষ করার প্রয়োজন পড়ে না। এ পদ্ধতিতে আগাছাও কম জন্মে এবং সারের ব্যবহারও কম করতে হয়। উপরন্তু এ পদ্ধতিতে রসুনের ফলনও বেশি হয়। বিঘা প্রতি রসুনের ফলন হয় ২০-২৫ মণ।
বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ খয়েরউদ্দিন মোল্লা বলেন, বড়াইগ্রামের দোঁ-আশ ও এঁটেল দোঁ-আঁশ মাটি রসুন চাষের জন্য বেশি উপযোগী। তাছাড়া ভালো দাম পাওয়ায় রসুনই এ এলাকার প্রধান ফসল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু গত ২-৩ বছর যাবত্ দাম না পাওয়ায় কৃষকের আর্থিক লোকসান গেছে। তাই এবার বড়াইগ্রামে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।