ক্যাপটিভ বিদ্যুতের নয়া দাম ঘোষণা খুব শিগগিরই

শিল্প কারখানায় ব্যবহূত গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের (ক্যাপটিভ) বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ বিষয়ে কমিশন কার্যালয়ে উন্মুক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিইআরসি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইমদাদুল হকের সভাপত্বিতে উপস্থিত কমিশনের দুই সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও ড. সেলিম মাহমুদ, বিইআরসির উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম এবং বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুত্ কেন্দে র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উদ্যোক্তারা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পাঁচ টাকা নয় পয়সা করার প্রস্তাব করেছেন। কিন্তু বিইআরসি গঠিত মূল্যায়ন কমিটি এ দাম দুই টাকা ৮৩ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে ভোক্তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বিদ্যুতের দাম দুই টাকা ২৫ পয়সার বেশি হওয়া উচিত নয় বলে মত দিয়েছে। সভায় আগামী ৬ জানুয়ারির মধ্যে স্টোক হোল্ডারদের লিখিতভাবে মতামত জানতে বলা হয়েছে। এরপরই কমিশন নতুন দামের আদেশ দেবে। এর আগে ২০১০ সালের নভেম্বরে কমিশন তেল ও কয়লাভিত্তিক বাণিজ্যিক বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে। ওই সময় গ্যাসভিত্তিক কেন্দে র দাম নির্ধারিত না থাকায় বিদ্যুত্ কেনায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল। এ অবস্থায় বিদ্যুতের ক্রেতা বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এবং বিক্রেতাদের অনুরোধে কমিশন চলতি বছর সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি উত্পাদন ব্যয় যাচাই-বাছাই করে সম্প্রতি কমিশনে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে, গ্যাসের দাম প্রতি হাজার ঘনফুট ৭৯ টাকা ৮২ পয়সা ধরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য জ্বালানি ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ পয়সা ও অজ্বালানি ব্যয় ধরা হয়েছে দুই টাকা ৮ পয়সা। এতে বলা হয়, কমিশনের অনুমতি ছাড়া বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) ক্ষেত্রে সার্ভিস ট্যারিফ রেটের স্থির ব্যয় (ঋণের সুদ, রিটার্ন অন ইক্যুইটি, অপচয়) অংশ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে গ্যাসের দাম বাড়লে আনুপাতিক হারে বিদ্যুতের দামের সঙ্গে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হবে। এরই মধ্যে ক্যাপটিভে সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম প্রায় ১০৩ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে পেট্রোবাংলা। বর্তমানে ক্যাপটিভ বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বিক্রি হয়। এরমধ্যে আরইবি কিনে প্রায় ২২ মেগাওয়াট। পিডিবি ও আরইবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুত্ দুই টাকা ২৫ পয়সা থেকে দুই টাকা ৬৭ পয়সা পর্যন্ত দামে কিনে থাকে। এছাড়া ফার্নেস তেলচালিত কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ৭৫ পয়সা। দ্বৈত জ্বালানির ক্ষেত্রে শতভাগ গ্যাস হলে দুই টাকা ৭৭ পয়সা ও শতভাগ ফার্নেস তেল হলে ৭ টাকা ৮৩ পয়সা। কয়লা থেকে উত্পাদিত বিদ্যুতের ক্ষেত্রে খনিসংলগ্ন দেশি কয়লা জন্য প্রতি ইউনিটরে দাম চার টাকা ৯ পয়সা। আমদানি করা কয়লা দিয়ে উপকূল এলাকায় বিদ্যুত্ কেন্দ্র হলে চার টাকা ৫১ পয়সা ও দেশের অভ্যন্তরে নৌ চলাচল সুবিধাসম্বলিত এলাকার জন্য চার টাকা ৯৭ পয়সা দাম নির্ধারণ করা হয়।