মুক্তাগাছায় পুরনো মন্দির সংস্কারের উদ্যোগ নেই

আগে যেখানে সকাল-সন্ধ্যা কাসার ঘণ্টা, ঢাকের বাড়ি, করতালের ঝুনঝুন শব্দ শোনা যেত, এখন সেখানে শুধু চাম বাদুরের ডাক শোনা যায়। অযত্ন আর অবহেলায় প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে মুক্তাগাছার ৮টি মন্দির। দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক এই মন্দিরগুলোর ভেতরে সাপ আর বাদুর বাসা বেঁধেছে। মন্দিরের প্রাচীন বিগ্রহ মূর্তি সবই চুরি হয়ে গেছে। এখন শুধু মন্দিরের ভগ্নদেহ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগুলো রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেনি। সোয়াশ’ বছরের প্রাচীন ১৬টি মন্দির রয়েছে। তন্মধ্যে ১৭শ’ শতাদ্বিতে নির্মিত ৭টি, বাকি ৯টি ১৮শ’এবং ১৯শ’ শতাব্দিতে নির্মাণ করা হয়। ১৭শ’ শতাব্দিতে নির্মিত জমিদার বাড়ির ভেতরের রাজেশ্বরী মন্দির, জমিদার বাড়ি সংলগ্ন ২টি শিব ও ৩টি শিব মন্দির, লক্ষীখোলার শিব মন্দির, কালিবাড়ির ১টি জোড়া শিবকালী মন্দির এবং জগন্নাথ বাড়ি মন্দির। এই ৮টি মন্দিরের অবস্থা আজ বড়ই করুণ। ৪টি মন্দিরের যাবতীয় কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে বহু আগেই। এগুলো দখল করে গৃহ হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। বাকি ৪টি মন্দির বিলুপ্ত হবার পথে। এককালে হিন্দু জমিদার শাসিত অঞ্চল ছিল মুক্তাগাছা। ১৭০৪ সালে শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরী নবাব মুর্শিদকুলি খার অনুগ্রহ লাভ করে মুক্তাগাছায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং জমিদারী শাসন চালু করেন। নির্মাণ করেন বাসভবন ও মন্দির। শ্রীকৃষ্ণ ও তার পরবর্তী বংশধররা পর্যায়ক্রমে ভারত থেকে দক্ষ শ্রমিক এনে এ সমস্ত মন্দির তৈরি করেন বলে লোক মুখে শোনা যায়। ১৯৫৬ সালে সরকার জমিদারি প্রথা বাতিল করলে জমিদারদের প্রায় সবাই ভারতে চলে যান। এরপর থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত লুটপাট হয় মন্দিরের বিগ্রহ,দামি সরঞ্জামাদি এবং জমিদার বাড়ির মালামাল। ১টি মন্দির কিছুদিন আগ পর্যন্ত জমিদারদের শেষ বংশধর দেবাশীষ আচার্য দেখাশোনা করতেন। তার মৃত্যুর পর এটিও নিরব। বাকি ৪টি মন্দির পরিচালনা ও সংরক্ষণ করছেন স্থানীয় হিন্দুরা।