অবসান হোক রাজনৈতিক অস্থিরতার

‘রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি চাই। প্রতিটি মানুষও মুক্তি চায়। আর এ মুক্তি হচ্ছে বড়দিনের আহ্বান। অবসান হোক রাজনৈতিক অস্থিরতার, বড়দিনে এই আমাদের প্রার্থনা। সংলাপের পথে পা বাড়ালে মানুষ অবশ্যই মুক্তির দেখা পাবে।’ খ্রীস্টানদের প্রধান ধর্মীয় উত্সব বড়দিন উপলক্ষে আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও সিএসসি কাকরাইল ক্যাথেড্রিল চার্চে দৈনিক ইত্তেফাককে দেয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে এসব কথা বলেন। আর্চবিশপ বলেন, প্রতিটি বছর আসে ভিন্নভাবে। আমরা প্রার্থনা করি ঈশ্বরের নিকট। এ প্রার্থনা শুধু যে আমাদের মাঝে সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়। যে ধর্মেরই হোক না কেন সে তো একজন মানুষ। আর তাই আমরা সকল মানুষের মুক্তি চাই। দেশ ও সমাজ সব কিছুতে শান্তি দেখতে চাই। যেখানে আমরা দেখি ভালোবাসা, সম্প্রীতি, মঙ্গল, ন্যায্যতা ও শান্তি; সেখানেই বড়দিনের সত্যতার প্রকাশ। বড়দিন মানে পরিবারের আনন্দ। এই আনন্দ ছড়িয়ে যাক সবার মাঝে। প্যাট্রিক ডি রোজারিও বলেন, ‘আমি এবং আমরা যে সত্য কথাটা ধারণ করি তা হলো মানুষ অসত্য ও মিথ্যার বন্দিদশা থেকে মুক্তি চায়। মানুষ নিপীড়ন, অত্যাচার, পরাধীনতা, অনুন্নয়ন, ধর্মান্ধতাসহ পাপের দাসত্বসহ সব ধরনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি চায়। সর্বদাই মানুষের মুক্তির বাসনা ছিলো এবং থাকবে। যেহেতু মানুষ মুক্তি চায়, ঈশ্বরও আমাদের মুক্তির জন্য যীশুকে প্রেরণ করেছিলেন। বড়দিন কী মানুষের জন্য সত্য হবে? আমি বিশ্বাস করি মানুষ মুক্তি পায় এবং পাবে। কেউ না কেউ আসবে মুক্তির বাণী নিয়ে।’ তিনি বলেন, ‘আমি খ্রীস্ট খ্রীস্টাঙ্গন রেখার মধ্যে সীমাবদ্ধতা রাখতে চাই না এবং যায় না। মানুষের মুক্তির জন্য সবাই কাজ করছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, কৃষ্টিসহ সকল ক্ষেত্রে মানুষের মুক্তির জন্য বড়দিনের বার্তা পরিবেশিত হচ্ছে। এটা না হলে বড়দিন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার জালে আটকে থাকবে। যা ভালো, যা উত্তম তার সেবা করার আহ্বান সার্বজনীন। বড়দিনে আমাদের প্রার্থনা সকল মানুষের জন্য। যেহেতু বড়দিন সত্য, সেহেতু পূর্ণতা ও অগ্রগতি হয় সে জন্য আমরা বড়দিন ও নতুন বছরের জন্য শুভ কামনা করছি। আর্চবিশপ দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ঈশ্বর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সবার মঙ্গল চান। যীশু শুধুমাত্র খ্রিস্টানদের জন্য নয়, পৃথিবীতে এসেছিলেন গোটা মানবজাতির জন্য। আমরা দেশবাসীর সাথে একাত্মতা পোষণ করি। সবার ভালো ও মঙ্গল চাই।’ এদিকে গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় কাকরাইল ক্যাথেড্রিল চার্চে বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রার্থনা অনুষ্ঠান ছিল পৃথক চারটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্বে বাইবেল থেকে পাঠ, শাস্ত্র পাঠ, ধর্মীয় সঙ্গীত ও বন্দনা গীতি পরিবেশন করা হয়। পৌরহিত্য করেন আর্চবিশপ। দ্বিতীয় পর্বে ঐশ্বীবাণী ঘোষণা, শাস্ত্রের ব্যাখ্যা প্রদান, সার্বজনীন প্রার্থনা। তৃতীয় পর্বে যজ্ঞ নিবেদন এবং চতুর্থ অর্থাত্ শেষ পর্বে হয় সমাপনী প্রার্থনা। সামপনী প্রার্থনার শেষ বাণী হচ্ছে যাও যা করেছ বড়দিনে তা ধারণ করে জীবন পরিচালিত করো।