মির্জা ফখরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

পৃথক দুটি মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। শুনানি শেষে অবকাশকালীন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হেলালউদ্দিন জামিন আবেদন না-মঞ্জুরের আদেশ দেন। পল্টন ও শেরেবাংলা নগর থানায় দায়েরকৃত পৃথক দুটি মামলায় ফখরুলের পক্ষে জামিন শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি ও অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। শুনানিতে তারা বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন ময়লার গাড়ি পোড়াতে যাবেন? তিনি যেখানেই যান সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা সব সময়ই তার সঙ্গে থাকেন। ৯ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় তার নেতৃত্বে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তা সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা অবশ্যই প্রকাশ ও প্রচার করতেন। রাজনৈতিকভাবে হয়রানির করার জন্য মির্জা ফখরুলকে এ মামলায় আসামি করে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আবু বলেন, ফখরুলের নেতৃত্বেই গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মূল পরিকল্পনায় ছিলেন মির্জা ফখরুল। তাই তাকে জামিন দেয়া উচিত হবে না। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন আবেদন নাকচ করে দেয় আদালত। গত ১০ ডিসেম্বর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে ফখরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে পল্টন ও শেরেবাংলা নগর থানার দুটি মামলায় হেফাজত চায় পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে পল্টন থানায় মামলাটি করেন মো. আয়নাল নামে কর্পোরেশনের এক গাড়িচালক। এছাড়া শেরেবাংলা নগর থানার অপর মামলাটি করেন ওই থানার এসআই রুহুল আমিন। মামলায় ফখরুলের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাংচুর, পুলিশের কাজে বাধা দেয়া ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ঢাকার বিচারকি হাকিম আদালত হেফাজত ও জামিন আবেদন নাকচ করে ফখরুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের এই আবেদন করেন ফখরুল। প্রসঙ্গত, গত ৯ ডিসেম্বর অবরোধে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ঢাকায় ৩৮টি মামলা হয়, যার প্রায় সবকটিতে আসামি করা হয়েছে ফখরুলকে।