তথ্য ধামাচাপা দিতে মাসোহারা নিতেন সোনালী কর্মকর্তারা

হলমার্ক গ্রুপের অবৈধ ঋণ নেয়া সংক্রান্ত ফাইল বা তথ্য-উপাত্ত ধাপাচাপা দেয়ার জন্য হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদের কাছ থেকে মাসোহারা নিতেন সোনালী ব্যাংকের হেড অফিসের কর্মকর্তারা। আর একারণেই হলমার্ক গ্রুপ ধারাবাহিকভাবে সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতি করার সুযোগ পেয়েছে বলে জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সিনিয়র উপ-পরিচালক ও দুদকের দায়েরকৃত মামলার বাদি মীর জয়নুল আবেদিন শিবলী। গতকাল সোমবার বিকাল ৪টায় আদালত কর্তৃক রিমান্ড মঞ্জুর শেষে সদ্য আটক সোনালী ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাকে দুদক কার্যালয়ে নেয়া হলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন। হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুই মামলায় সোনালী ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তাকে ছয় দিন করে ১২ দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার ওই দুই মামলায় প্রত্যেককে ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানায় দুর্নীতি দমন কমিশনের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের তদন্ত দল। পরে মহানগর হাকিম মোস্তাফিজুর রহমান ১২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেফতারকৃত এই তিন কর্মকর্তা হলেন- ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জিএম মীর মহিদুর রহমান, প্রধান কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়ন বিভাগের বরখাস্ত ডিজিএম শেখ আলতাফ হোসেন, বরখাস্ত ডিজিএম মো. সফিজউদ্দিন আহম্মেদ। গত রবিবার সন্ধ্যায় রমনা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। দুদক উপ-পরিচালক বলেন, সোনালী ব্যাংকের বরখাস্তকৃত এই কর্মকর্তার মধ্যে মহাব্যবস্থাপক মীর মহিদুর রহমান সোনালী ব্যাংকের ঢাকার জিএম অফিসের প্রধান ছিলেন। তিনি যদি নির্ধারিত সময়ে সঠিকভাবে তদারক করতেন তাহলে সোনালী ব্যাংকে এতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতো না। বাকি দুইজন— শেখ আলতাফ হোসেন ও সফিজউদ্দিন আহম্মেদ ছিলেন হেড অফিসের আইটিএফডির প্রধান। প্রতিনিয়ত এলসি এবং আইবিপি সংক্রান্ত যেসব তথ্য-উপাত্ত হেড অফিসে পাঠানো হতো, তারা এগুলো ধামাচাপা দিতেন। বিনিময়ে তারা মাসোহারা নিতেন। এই তিনজনের মাসোহারার বিষয়টি হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদের আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও বলেছেন। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বলেন, গত ৪ অক্টোবর রমনা থানায় হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ফান্ডেড অংশে ১৫৬৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অপরাধে সোনালী ব্যাংকের ২০ কর্মকর্তা এবং হলমার্কের সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমরা মোট ১১টি মামলা দায়ের করি। তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। এই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও তারা আমাদের কাছে উপস্থিত হননি, পলাতক ছিলেন। দুদক নিজস্ব কৌশল অবলম্বন করে রমনা এলাকা থেকে রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাদের গ্রেফতার করে।