পশ্চিম এন্টার্কটিকায় বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৮
বিজ্ঞানীদের ধারণার চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফের স্তর। মার্কিন গবেষকরা বলেন, দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীস্মকালে এ অবস্থা সৃষ্টির তথ্য তারা পেয়েছেন। এর ফলে বরফখন্ড গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে। ফলে বিশ্বের উপকূলীয় দেশগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। রোববার ন্যাচার জিওলজি জার্নালে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খবর বিবিসির।
পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বায়ার্ড গবেষণা কেন্দ্রে রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা থেকে দেখা যায়, ১৯৫৮ সালের পর থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা পৃথিবীর তাপমাত্রার দ্রুততম পরিবর্তন। এছাড়া এটি পৃথিবীর তাপমাত্রা পরিবর্তনের বর্তমান হারের চেয়ে প্রায় তিনগুণ। তারা আরও জানান, শুধু পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকায় যে পরিমাণ বরফ আছে, তা গলতে শুরু করলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ দশমিক ৩ মিটার (১১ ফিট) বেড়ে যাবে। এবং মোটামুটি একশ’ বছরের মধ্যেই সেটি সম্ভব। এর আগে বিজ্ঞানীরা যা ধারণা করেছিলেন, তার চেয়ে এই উত্তপ্ত হওয়ার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ। বছরের পর বছর ধরে অ্যান্টার্কটিকায় বরফ জমাটবদ্ধ থাকলেও গত কয়েক দশকের গ্রীষ্মকালীন উচ্চ তাপমাত্রা বরফ গলার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে অদূর ভবিষ্যতে আশঙ্কাজনকভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে পারে।
সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে উপকূল এলাকার নিচু অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিস্কো থেকে চীনের সাংহাই, যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্স ও বাংলাদেশ থেকে টুভ্যালুর মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। উল্লেখ্য, গত শতাব্দীতে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ২০ সেন্টিমিটার (৮ ইঞ্চি) বাড়লেও চলতি শতাব্দীতে তা ১৮ থেকে ৫৯ সেন্টিমিটার (৭ থেকে ২৪ ইঞ্চি) পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রিউ মনাঘান বলেন, আমরা যা দেখছি তা এ পর্যন্ত উত্তপ্ত হওয়ার সর্বোচ্চ সংকেত। তিনি বলেন, গ্রীস্মকালে উত্তপ্ত হওয়ার তথ্যটি এই প্রথমবারের মতো পাওয়া গেল।