মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
আবার তো হবে দেখা...
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৫৩
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদযাপিত হলো বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান ‘র্যাগ ডে- ২০১২’। শিক্ষার্থীরা উপভোগ করলো আনন্দ-বেদনার ‘র্যাগ ডে’ উত্সব। ভালোবাসার রঙে মন রাঙিয়ে উত্সবে মেতেছিল বিভাগের সকল ব্যাচের সবাই। নেই কোন অভিমানী মুখ, নেই কোন অনুযোগ, নেই কোন দুঃখ। এ যেন আত্মহারা আনন্দ।
এ এমন এক আনন্দ, এমন এক আকুলতা, যা সতীর্থের সঙ্গে দীর্ঘ বিচ্ছেদকে হার মানায়। ছিল ভালোবাসার স্নিগ্ধ পরশ বোলানো দিবসের স্মৃতিময় একটি দিন। রংধনুর ন্যায় সুসজ্জিত ছিলো পুরো ক্যাম্পাস। সব আনন্দ যেন বয়ে এসেছিল এ ক্যাম্পাসে। সপ্তাহজুড়ে সবাই ছিল ফুর্তির আমেজে। নীরবতা ছিল না একটি মুহূর্তও। সবাই সেজেছে একই পোশাকে। জীবনের একটি অন্যতম অধ্যায় হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে খচিত হলো এই দিনটি। কেমন লাগছে? এমন অনুভূতি জানতে চাইলে অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিজান, রাজু, রবিন ও মঞ্জু বলেন, সত্যি বলতে কি, এ অনুভূতি প্রকাশ করার কোন ভাষা নেই।
সকাল ১০টা থেকেই ক্যাম্পাস মুখরিত হয় শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উল্লাসে। নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে শিক্ষার্থীরা হৈ-হুল্লোড় শুরু করে। এ যেন অন্যরকম এক ক্যাম্পাস। সবুজ ক্যাম্পাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ক্যামেরায় মুহূর্তের ভেতর স্মৃতির ডায়রিতে জমা রাখতে শুরু হয় স্মরণীয় স্মৃতিগুলো। সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালী শুরু হয়। র্যালীটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। র্যালীতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. নুরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.মনিরুজ্জামান, প্রক্টর মুহাম্মদ উমর ফারুক। সাথে সাথে চলে ফটোসেশন। প্রিয় শিক্ষক ও বন্ধুদের নিয়ে ক্যাম্পাসে একসাথে আনন্দ র্যালীতে অংশ নেয়া এ যে কত আনন্দের তা হয়তো কেউ ভাষায় প্রকাশ করতে পারেনি। তবুও তাদের আনন্দ দেখে অন্যরাও আলোড়িত হয়।
অবশেষে দিন ফুরিয়ে রাত হল। গভীর রাতের সঙ্গেই মিলিয়ে যেতে লাগল হাসি, আনন্দ, গান। বিদায়ের সময় দেখা যায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না। যেন স্বজনহারা শোকার্ত সবাই। একে একে বিদায় নিল সবাই। গোটা ক্যাম্পাসের প্রাণোচ্ছল বিদায়লগ্নে মনের গহীনে সবার একটাই সুর, অব্যক্ত ব্যাকুলতা, অভিমানী সংশয় আবার তো হবে দেখা...।