তোমাদের চিঠি থেকে

কচি-কাঁচার আসরের বন্ধুরা, কেমন আছো? সবাইকে আমার বিজয়ের রক্তিম শুভেচ্ছা। আজ তোমাদের আমি একটা গল্প শোনাবো। গল্পটি আমার দাদীর মুখে শোনা। বরিশার জেলার মেহেন্দীগঞ্জ থানায় হয়েছিলো এক সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধ। রাজাকার আর পাকসেনাদের ভয়ে আমার দাদা দুদিন পালিয়ে ছিলেন ধান ক্ষেতের ভেতর। তারপর বাড়ি ফিরে এসে আবার শুনতে পেলেন রাজাকাররা আসছে বাড়ির দিকে। এই খবর পেয়ে সবাই চরশামরা গিয়েছিলেন। সেখানেও যুদ্ধ চলছিল। রাজাকার বাহিনী দাদুকে গুলি ছুঁড়ছিল। তখন আমার দাদুর কোলে ছিলো আমার পিতা মো. আমির হোসেন। তাকে নিয়ে সবাই দৌড়ে গিয়ে কচুরিপানা ভরা একটি পুকুরে নেমেছিলেন। পুকুরে ছিলো হাঁটু পানি। পুকুরের কচুরিপানার ভেতর তারা পাঁচদিন লুকিয়ে ছিলেন। তারপর বাড়িতে ফিরে দেখলেন পাকিস্তানি সেনারা সব খাদ্যসামগ্রী ফেলে দিয়েছে। অনেক বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে ফেলেছে। ক্ষুধায় সবাই দিশেহারা। কিন্তু কিছুই করার ছিলো না। শুধু তাই নয়, তারা প্রায়ই গ্রামে হানা দিয়ে গরু-ছাগল নিয়ে যেতো। পাকিস্তানি সেনাদের সাহায্য করতো রাজাকাররা। রাজাকারদের নেতৃত্ব দিতো এক বড় দারোগা। বড় দারোগার স্ত্রী স্বাধীনতার সপক্ষে ছিলেন। স্বাধীনতার পর তাকে গাছের সাথে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে আমার দাদা শহীদ হয়েছেন। শহীদ হয়েছেন এদেশের ত্রিশ লক্ষ মানুষ। আমি শহীদদের অশেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহপাক যেন বেহশতে তাদের সুউচ্চ মর্যাদা দান করেন। মো. আরিফুল ইসলাম, সদস্য নম্বর:৩০৭৮, পশ্চিম জিন্নাগড় নূরিয়া আলীয়া মাদ্রাসা, চরফ্যাশন, ভোলা।