মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর জন্য থ্রি-জি’র সিদ্ধান্ত ফেব্রুয়ারিতে :অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:০০
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রি-জি) সেবা পাওয়ার বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। থ্রি-জি সেবা এতদিনেও জনগণের দোরগোড়ায় না আসাকে দুঃখের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিটিআরসি’র অবস্থান জানা গেলে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সাথে এর একটি সমাধান হবে। আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি থ্রি-জি’র নিলাম শুরু করা যাবে। আশা করছি ফেব্রুয়ারির শুরুতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৫ দিন ব্যাপী তথ্য-প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমানে থ্রি-জি সেবা কেবলমাত্র সরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের গ্রাহকরা নিতে পারছেন। বিসিএস আইসিটি ওয়ার্ল্ড আয়োজিত মেলার এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লা খান।
দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন এখন সময়ের ব্যাপার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট সেবা দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন করতে ইতোমধ্যে ঢাকা টেলিকম ও এয়ারটেলের সাথে চুক্তি হয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে দুর্নীতি নিরসনের শ্রেষ্ঠ উপায় হলো ডিজিটালাইজ করা। ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে দুর্নীতি কমাতে এর বিকল্প নেই। আইসিটি ল্যাব স্থাপনে দেরি হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, আইসিটি ল্যাব স্থাপনে বিলম্ব হওয়ায় আশ্চর্য হয়েছি। অথচ এর মাধ্যমে কম বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা হয়। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেয়া হবে।
বিগত চার বছরে আইসিটি খাতে সরকারের নানামুখী অর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ই-সেবা, ই- গভর্ননেন্স ও ই-টেন্ডার চালুর পর এবার দেশের সাড়ে আট হাজার পোস্ট অফিসকে ই-সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। গাজীপুরে আইসিটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে গত চার বছরে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছেনি এমন ইঙ্গিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই খাতে প্রযুক্তিগত উত্কর্ষতা বাড়ানোর আরো সুযোগ রয়েছে। তিনি ব্যাংকগুলোকে এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) সেবা আরো বিস্তৃত করার তাগিদ দিয়ে বলেন, এটি করা সম্ভব হলে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আরো বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। এই সেবা দেশকে অন্য মার্গে নিয়ে যাবে। ২০২১ সালের সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির পরিচালক মোস্তফা জব্বার বর্তমান সরকারের গত চার বছরে থ্রি-জি সেবা ব্যাপকভাবে চালু না করতে পারায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, থ্রি-জি চালু করতে না পারায় সরকার গত চার বছরে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। দেশের প্রতিটি স্থানে এই সেবা দ্রুত চালু করতে তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনা এতদিনেও ডিজিটালাইজ করা সম্ভব না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে সফটওয়্যার রফতানি ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে পা পারলে এই খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে না। প্রজেক্টর আর ল্যাপটপ দিয়ে কাগজের বই পড়ালে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হবে না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও তথ্য-প্রযুক্তিখাতে তার প্রতিফলন নেই।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রদর্শনীর স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস তাবরেজ, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব ও মেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. শাহিদ-উল-মুনীর প্রমুখ।
পাঁচদিন ব্যাপী এ মেলা শেষ হবে আগামী শনিবার। প্রদর্শনীতে তথ্যপ্রযুক্তির ৫২টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। থাকছে ৯০টি স্টল এবং ১৫টি প্যাভিলিয়ন। আজ থেকে মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের জন্য সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। এবারের মেলার শ্লোগান হচ্ছে ‘দিন বদলের শিক্ষা প্রযুক্তি আর শিক্ষা’।
প্রদর্শনী চলাকালে ‘ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং ও ওপেন সোর্স: অবারিত ভবিষ্যত্’, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের চার বছর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’, ‘ই-এডুকেশন’ এবং ‘ই-লার্নিয়ের লক্ষ্য ও মেরিটাইম শিক্ষায় প্রয়োগ’ শীর্ষক চারটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।