মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ৩৯০ কোটি ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিলো ৩১৪ কোটি ডলার। এ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ কোটি ডলার বা ১৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ রেমিট্যান্স বেড়েছে। এর আগে ২০১০-১১ অর্থবছরে এসব দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছিলো। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে অন্য দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ২২১ কোটি ডলার। অর্থাত্ চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সর্বমোট ৬১১ কোটি ৪৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশ ভিত্তিক পর্যালোচনা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্রমতে, বেশ কয়েক বছর যাবত্ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রফতানিতে মন্দা ভাব বিরাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশে আশানুরূপ জনশক্তি রফতানি না হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এসব দেশ থেকে অনেকেই দেশে ফিরে এসেছে। আর এসব প্রতিকূলতায় ২০১০-১১ অর্থবছর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছিল। যদিও গত অর্থবছর সে ধারা কিছুটা কাটিয়ে উঠলেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের অন্যতম যোগানদাতা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা রেমিট্যান্সে সেসময় খুশি হতে পারেনি অনেকে। তবে চলতি বছরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স অনেক বেশি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত অর্থবছরে (২০১১-১২) মধ্যপ্রাচ্যের ৮টি দেশ থেকে রেমিট্যান্স এসেছিলো ৮৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। তার আগের অর্থবছর এসব দেশ থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিলো ৭২১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার যা তার পূর্ববর্তী অর্থবছরে আসা ৭২২ কোটি ২৬ লাখ ডলারের তুলনায় কম ছিলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আশানুরূপ হারে জনশক্তি রফতানি না বাড়লেও বিভিন্ন সময়ে যাওয়া জনশক্তির বড় একটি অংশ এসব দেশে রয়েছে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিবাচক প্রচারণার ফলে বর্তমানে ব্যাংকিং চ্যানেলে বেশি রেমিট্যান্স আসছে। এছাড়া অনেক প্রবাসী এসব দেশ থেকে ফিরে এসেছেন যারা সেখানে সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এসব কারণে রেমিট্যান্স বেড়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সৌদি আরবে জনশক্তি রফতানি আশঙ্কাজনক হারে কমলেও রেমিট্যান্সে একক দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দেশটি। চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে সেখান থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৪ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১২০ কোটি ১৮ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৭৩ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। কুয়েত থেকে এসেছে ৪৯ কোটি ১৩ লাখ ডলার, যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৪৭ কোটি ২৯ লাখ ডলার এবং মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৩৯ কোটি ৬৬ লাখ ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২১ দিনে ৯৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন। এর আগে গত নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিলো ১১০ কোটি ২১ লাখ ডলার। আর একক মাস হিসেবে আগের যে কোনো মাসের তুলনায় বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল গত অক্টোবরে। ওই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৪৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। চলতি মাসের ২১ দিনে পাঠানো রেমিট্যান্সের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানার চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ২৮ লাখ ডলার। বেসরকারি খাতের ৩০টি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৭ কোটি ৫৩ লাখ ডলার এবং বিদেশি মালিকানার ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি দুই লাখ ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।