শত বছরের রাজশাহী কারাগার অধিকাংশ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণ ক্ষমতার প্রায় তিনগুণ বন্দী মৃত্যু ঝুঁকিতে চরম অমানবিক ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছে। শতবছরের পুরানো কারগারের জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভূমিকম্প কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানের অভাবে অগণিত বন্দী রাতে ঘুমাতে পারেন না। এমতাবস্থায় গত ২২ ডিসেম্বর রাতের ভূমিকম্পের সময় বন্দীদের মধ্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২৭৭ (পুরুষ ১ হাজার ২৩৬ এবং নারী ৪১) জন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানের সময় বন্দীর সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। সূত্র মতে, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মিত ৪৪টি ভবনের ৪০টিই শতাধিক বছরের পুরানো। একটি দোতলা ব্যারাক ২০ বছর আগে গণপূর্ত অধিদপ্তর পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এছাড়া নিরাপত্তা ওয়ার্ডের দ্বিতীয়তলার ৪টি ওয়ার্ড ২০ বছর আগে, খাপড়া ওয়ার্ড ৩ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়। হাজতিদের ডিভিশন এবং সিভিল ভবনের সবক’টি ওয়ার্ডও ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোপূর্বে কয়েকটি ভবনের সংস্কার হলেও তা বর্তমানে পূর্বাবস্থায় ফিরেছে। কারা অভ্যন্তরের ড্রেনেজ পরিকল্পনা ১৮৪০ সালে তৈরি। চারপাশের বাড়ি ও সড়ক উঁচু হওয়ায় কারাগার এলাকা নিচু হয়ে পড়েছে। উপরন্তু অভ্যন্তরের স্যানিটেশন ব্যবস্থাও সেকেলে। বাসস্থান না থাকায় কারারক্ষী ও কর্মচারিরা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন। এ ব্যাপারে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সরকারের উদাসীনতায় ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ১৭২ বছরের পুরাতন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের উন্নয়ন হয়নি। এখানে বন্দীরা মানবতার জীবনযাপন করেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রিজন মোঃ বজলুর রহমান বলেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জরাজীর্ণ ভবনের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকার প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করলে এখানকার সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান হয়ে যাবে।