আত্রাইয়ের মিরাপুর বধ্যভূমি অবহেলিত

আত্রাই মিরাপুর গ্রামে একাত্তরের বধ্যভূমিটি আজও অবহেলিত। ৪১ বছরেও এই বধ্যভূমির শহীদ পরিবারের কেউ খোঁজ নেয়নি। জানা গেছে, ’৭১ সালের ১১জুলাই। ভোর রাত, তখনও ফজরের আযান হয়নি। ওই সময় পাক-হানাদার বাহিনী দু’টি বড় বজরা নৌকাযোগে এসে উপজেলার মিরাপুর গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী নওগাঁ’র রানিনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রাম ঘেরাও করে মুক্তিকামী মানুষদের আটক করে। পাকবাহিনী নামাজরত মুসল্লিদেরকেও আটক করে। আটকৃতদেরকে আত্রাই-নওগাঁ সড়কের পার্শ্বে মিরাপুর গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের মধ্যে একত্রিত করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করার অভিযোগে প্রায় ৩০ জনকে ওই বাঁশঝাড়ের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়াও বর্বর পাকবাহিনী কৃষ্ণপুর গ্রামের ৪/৫ জন নারীকে ধর্ষণ করে। পাকবাহিনীকে পথ দেখিয়ে এনেছিল উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার জানা এবং একই উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আরেক কুখ্যাত রাজাকার শুকুর। কৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে আটককৃত ১৭ বছরের স্কুলছাত্র ওয়াহিদউদ্দিন মিলুকে সেদিন গুলি না করে ছেড়ে দেয় পাকবাহিনী। মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে যাওয়া ওয়াহিদ বলেন, ‘আমার চোখের সামনে প্রায় ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেদিন যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ২৪ জন শহীদের নাম জানা গেছে। ঐ সব পরিবারের দাবি এখানে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হোক।