রাজশাহীতে প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশা
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩০
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হয়। প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় আলুর চারায় লেটব্লাইট এবং বোরোর বীজতলার চারায় কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। উদ্বিগ্ন কৃষকরা স্থানীয় কৃষিবিদদের পরামর্শে ফসল রক্ষায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে রাজশাহীতে আলুর আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩শ’ হেক্টর বেশি। অন্যদিকে বোরোর বীজতলা রয়েছে ৩ হাজার ৮৫১ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৭ হেক্টর বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে রাজশাহীর কৃষকরা আলুর আবাদ ও বোরোর বীজতলা নিয়ে ব্যস্ত। বেশিরভাগ আলুর জমিতে চলছে টপ ড্রেসিং এবং বোরোর বীজতলায় চারা তৈরির কাজ। গত রবিবার সারাদিন গুঁড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো ঘন কুয়াশা পড়ে। রবিবার মধ্যরাত থেকে গত সোমবার দুপুর পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ে।
পবার রাষ্ট্রপতির পদকপ্রাপ্ত আলু চাষি রহিম উদ্দিন সরকার বলেন, এবার তার নিজের ১২ বিঘা ও ছেলেদের ১৫০ বিঘায় আলুর আবাদ রয়েছে। বর্তমান আবহাওয়ায় আলু আবাদ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। আলু ছাড়াও বোরোর বীজতলা নিয়েও কৃষকরা কম উদ্বিগ্ন নন।
এ ব্যাপারে রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ হিল কাফি বলেন, বর্তমান প্রতিকূল আবহাওয়ায় আলুর জমিতে নাবী ধ্বসা বা আগাম ধ্বসা রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য জমিতে ম্যানকোজেব ও মেটালেক্সিন গ্রুপের ঔষধ নিয়মিত ছিটিয়ে ব্যবহার করতে হবে। বোরোর বীজতলা বিকালে পানি অথবা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং সকালে সরিয়ে ফেলতে হবে। এছাড়াও কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় আলু ও বোরোর বীজতলার চারা রক্ষায় তিনি কৃষকদের নিকটবর্তী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও পরামর্শ গ্রহণের অনুরোধ জানান।