তথ্য পাওয়া সকলের ন্যায্য অধিকার

তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্য পাওয়া সকলের ন্যায্য অধিকার বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ টেলিভিশনের চার যুগ পূর্তি অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে তিনি এ দাবি করেন। চার যুগ পূর্তির অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন গণভবনে বসে, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। এ সময় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু রামপুরা বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলের অনুমতি দেয়া হয়। তিনি এর পেছনের উদ্দেশ্য মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, মানসম্পন্ন বিনোদন এবং শিল্পী কলা-কুশলীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই স্যাটেলাইট চ্যানেলের যাত্রা শুরু । তিনি মনে করেন বর্তমানে গণমাধ্যম স্বাধীন। তবে স্বাধীনতার সাথে সাথে তাদের দায়িত্বশীলও হতে হবে। একটা সংবাদ প্রচারের প্রভাব সম্পর্কে তাদের সচেতন থাকতে হবে। স্বাধীনতা দায়িত্ববোধও সৃষ্টি করে। আর সরকারি গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠানের মান ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের আরো মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান করা বাংলাদেশ টেলিভিশনের লক্ষ্য। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারি প্র্রচার মাধ্যম সমাজ সংস্কার ও গঠনমূলক অনুষ্ঠান করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের এগিয়ে যাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে বলেও মনে করেন প্র্রধানমন্ত্রী। গণভবনের অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিটিভির মহাপরিচালক ম হামিদ। তথ্যসচিব এবং সংসদীয় তথ্য কমিটির সভাপতিও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিটিভির বিভিন্নকালে দায়িত্বপালনকারী পরিচালক মহাপরিচালকের সাথে আরও উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা জানান হাসান ইমাম, রামেন্দু মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বাংলাদেশ টেলিভিশন পা রেখেছে চার যুগে। বাংলাদেশ টেলিভিশন চার যুগে আমাদের সংস্কৃতিকে করেছে বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য। আজ দেশে দুই ডজনেরও বেশি টেলিভিশন চ্যানেল। যার পথিকৃত বাংলাদেশ টেলিভিশন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের চার যুগ পূর্তিকে স্মরণ করতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই মিলনমেলার আয়োজন করে। প্রবীণ-নবীনের স্মৃতিচারণার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। এছাড়া একটি দেশের গান সমবেত কণ্ঠে গেয়ে শোনান শাহীন সামাদ, ডালিয়া নওশীন ও ইন্দমোহন রাজবংশী। মিলনমেলায় শিল্পীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— ড. ইনামুল হক, ইকবাল বাহার চৌধুরী, তাহমিনা জাকারিয়া, মোস্তফা জামান আব্বাসী, আসমা আব্বাসী, কে এস ফিরোজ, মাসুদ আলী খান, সৈয়দ হাসান ইমাম, লায়লা হাসান, আফরোজা বানু, হাফিজুর রহমান সবুজ, নাদের চৌধুরী প্রমুখ। বাংলাদেশ টেলিভিশনের কর্মকর্তা ও কলাকুশলীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— সৈয়দ লুেফ আলী, এম এ মান্নান, এম মাহতাব, এম এ খালেক, মঞ্জুরুর রহমান, রেজাউল করিম, মনোজ সেন গুপ্ত, হায়দার রিজভী, কামরুন্নেসা হাসান, আলাউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, শামসুল হুদা, আহসান হাবীব, মহিউদ্দিন ফারুক, মহসিন রেজা, আলী ইমাম, ফিরোজ মাহমুদ, ফারুক ভুঁইয়া, খালিদ মাহমুদ মিঠু, আনোয়ার হোসেন, সালে আহমেদ, ইসরারুল হক, নওয়াজেশ আলী খান প্রমুখ।