টঙ্গীতে হারবাল কোম্পানির কারখানা সিলগালা
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০২
ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের নামে বিষাক্ত ভুয়া ক্রিম বিক্রি ও উত্পাদনের অভিযোগে লতা হারবাল নামে একটি প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানের কারখানা সিলগালা করে দিয়েছে মোবাইল কোর্ট। গত সোমবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত গাজীপুর জেলার টঙ্গী মাজুখান এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় মোবাইল কোর্ট অভিযান চালায়। এসময় সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত ক্রিম জব্দ ও প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষের একজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় মোবাইল কোর্ট। জানা গেছে, লতা হারবালের বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করে জটিলতায় ভোগা অনেক নারী র্যাবে অভিযোগ জানায়। তাই অভিযান পরিচালনার আগে লতা হারবালের বাজারে বিদ্যমান ১১টি ভিন্ন ভিন্ন ক্রিম সংগ্রহ করে র্যাব। এগুলোতে ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক উপাদান আছে কিনা পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় লতা হারবালের ক্রিমে উদ্বেগজনক মাত্রায় বিষাক্ত মার্কারি থাকার প্রমাণ মিলে।
র্যাব-১ এর উপ-অধিনায়ক লে. কমান্ডার দাউদ কাউসার মাহমুদের পরিচালনায় ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে লতা হারবালের কারখানায় অভিযান চালানো হয়। মালিক পক্ষের কর্মকর্তা শাফিজুল ইসলামকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। লতা হারবাল কোম্পানির মালিক আইয়ুব আলী পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেয় মোবাইল কোর্ট।
ক্যান্সার, গাইনি, লিভার, কিডনি, নিউরো মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকগণ জানান, বিষাক্ত মার্কারি সংমিশ্রণে তৈরি ত্বক ফর্সা ক্রিম ব্যবহারে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। মায়েরা অস্বাভাবিক শিশু জন্ম দিতে পারেন। তাছাড়া ব্যবহারকারীর স্মৃতিশক্তি লোপ পায়, উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা বাড়ে। হয়ে পড়েন হতাশাগ্রস্ত। এছাড়া হাত-পা অবশ, স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়া নষ্ট, চামড়া বিবর্ণ, রেশ ও যন্ত্রণাদায়ক চর্মরোগ সৃষ্টি, ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাসজনিত স্থায়ী রোগ সৃষ্টি, মস্তিষ্কে বিষক্রিয়া করে মানসিক বিকৃতি এবং পরিপাকতন্ত্রে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।
গোসল বা হাত মুখ ধোয়া পানি মার্কারিযুক্ত হয়ে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে খাবার পানি এবং মাছের মাধ্যমে তা মানবদেহে অনুরূপ রোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা অভিমত দেন। সারা বিশ্বে ক্ষতিকর বিষাক্ত মার্কারিযুক্ত ক্রীম ব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহ ইতিমধ্যে এ ধরনের পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। আমেরিকায়ও নিষিদ্ধ। ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ বলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।