সম্মেলনের খোঁজ খবর নিলেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় কেন্দ্রীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজ-খবর নিতে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় ধানমন্ডিস্থ তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মতবিনিময় করেন, বেশ কিছু নির্দেশনাও দেন। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে আওয়ামী লীগে। সম্মেলনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে পদ প্রত্যাশী নেতাদের টেনশন ততই বাড়ছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে তেমন পরিবর্তন না আসার সম্ভাবনা থাকলেও আগের পদ বহাল থাকছে কী না এবং পদোন্নতি হবে কী না, এ নিয়ে বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতাদের চিন্তার কমতি নেই। গতবারের সম্মেলনের মতো এবারের সম্মেলনেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গঠনে প্রধানমন্ত্রী বড় কোন চমক আনছেন কী না, এ নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনার কমতি নেই। তবে দলের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা শোনা গেলেও কাউন্সিলে নেতৃত্বের রদবদল কিনা তা একমাত্র দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপরই নির্ভর করছে। প্রধানমন্ত্রী দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত উপ-কমিটির চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি উপ-কমিটির কাজের অগ্রগতি, ব্যাপক পরিবর্তিত দলের ঘোষণাপত্রের খুঁটিনাটি বিষয়েও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনকে ঘিরে বেশকিছু নির্দেশনাও দেন। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের অধিকাংশই এ সময় উপস্থিত ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সম্মেলনের প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সম্মেলনের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিতেই প্রধানমন্ত্রী দলীয় কার্যালয়ে এসেছিলেন। সম্মেলনকে ঘিরে তিনি বেশ কিছু নির্দেশনাও দেন। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে এবার কোন বিদেশি অতিথি থাকছেন না। তবে বাংলাদেশে নিযুক্ত সকল দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন সব রাজনৈতিক দলকেও সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এবারের সম্মেলনে দলের ঘোষণাপত্রেও আনা হচ্ছে ব্যাপক পরিবর্তন। গত চার বছরে সরকারের অর্জিত সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে কী কী করা হবে, কোন ইস্যুকে প্রাধান্য দেয়া হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকছে। সম্মেলনে প্রায় সাত হাজার কাউন্সিলর ও ২০ হাজার ডেলিগেটরসহ প্রায় ২৫ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো প্যান্ডেলের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ডিজিটাল স্ক্রীনের মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। প্রায় ২৫শ’ স্বেচ্ছাসেবক সম্মেলনে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, দু’একটি পদে রদবদল ছাড়া বর্তমান কমিটি ঠিকই থাকছে। এই কমিটিতে যারা আছেন কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে পরবর্তী কমিটিতে তারাই বহাল থাকছেন। প্রেসিডিয়ামে দু’ একজনকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা থাকলেও সাধারণ সম্পাদক ও তিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রদবদলের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। নানা মতভেদ থাকলেও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পরবর্তী কমিটিতেও একই পদে বহাল থাকছেন বলে জানা গেছে। প্রেসিডিয়ামে একটি পদ শূন্য রয়েছে। প্রেসিডিয়ামে রদবদল না হলেও শূন্য পদে একজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে দলের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা শোনা গেলেও কাউন্সিলে নেতৃত্বের রদবদল আসছে কি আসছে না তা একমাত্র দলের সভাপতি শেখ হাসিনার উপরই নির্ভর করছে। জানা গেছে, দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে কারা যুক্ত হচ্ছেন, কারা বাদ পড়ছেন তার সবই নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্তের উপর। কাউন্সিলররা কমিটি নির্বাচনের এই দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে দিয়ে থাকেন। গত কাউন্সিলেও কমিটি নির্বাচনের জন্য শেখ হাসিনাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে আগামী নির্বাচনের কথা চিন্তা করে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে কেন্দ্রীয় কমিটির পরিধি কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। প্রেসিডিয়ামের সংখ্যা কিছুটা বাড়িয়ে দলের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবদুল জলিল, মোহাম্মদ নাসিম ও চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে অন্তর্ভুক্তি করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমান প্রেসিডিয়ামের কয়েক জন সদস্য বাদ পড়তে পারেন। এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ দুটি সম্মেলনকে ঘিরে এখন কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাদের পদভারে মুখর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও ধানমন্ডির কার্যালয়। কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে ঘিরে তেমন উত্তাপ না ছড়ালেও আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার বলে পরিচিত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে পদ প্রত্যাশীদের নানা দেন-দরবার, গোটা রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নেতাদের বড় বড় ডিজিটাল ব্যানারে সয়লাব হয়ে গেছে।