দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর শিলাইদহের কুঠিবাড়ি
সোহেল হাবিব, কুমারখালি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪৫
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়ি এখন প্রতিদিন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে এখানে রেকর্ড পরিমাণ দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান হতে আসছে দর্শনার্থীরা। ঘুরে ঘুরে দেখছে কবির স্মৃতি বিজড়িত নানা ঐতিহ্য। কুঠিবাড়ির আঙিনা জুড়ে ফুটেছে হরেক রকমের ফুল। তবে রং খসে পড়ায় কুঠিবাড়ির চেহারা বেশ বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। জানা যায়, প্রমত্ত পদ্মা বিধৌত খোরশেদপুর একসময় শেলী নামের একজন ইংরেজের প্রভাবে গড়ে ওঠে শিলাইদহ। সে সময় শেলী সাহেব নীলকুঠি স্থাপন করে এখানে নীল চাষ শুরু করেন। ১৮০৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ দ্বারকনাথ ঠাকুর জমিদারী ক্রয় করলে রবীন্দ্রনাথ ২৭ বছর বয়সে প্রথম শিলাইদহে আসেন জমিদারী তত্ত্বাবধান করতে। এখানকার কৃষকের সাথে তার সুসম্পর্ক, এলাকার মানুষের কল্যাণের জন্য বহুমুখী প্রচেষ্টা, সাহিত্য সাধনা, সর্বোপরি নোবেল প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে বিশ্ব মানসে শিলাইদহ হয়ে ওঠে ‘রবি ঠাকুরের শিলাইদহ’। নীলকর শেলীর কুপ্রভাব কাটিয়ে শিলাইদহ হয় পুণ্যভূমি। এরপর কালের গর্ভে চলে গেছে অনেক সময়। পদ্মার সেই প্রমত্ততা এখন আর নেই। নেই রবীন্দ্রনাথ এবং তার প্রিয় বকুলগাছ দু’টি।
শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে আগের মতো সেই নৈসর্গিক পরিবেশ আর নেই। পুকুর পাড়ে যে বকুলতলায় রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত বসতেন, যেখানে অনেক কবিতার জন্ম হয়েছে, অব্যবস্থাপনার কারণে সেই প্রিয় বকুল গাছতলা আজ খাঁখাঁ বিরান। কুঠিবাড়িতে রবি ঠাকুরের ব্যবহূত দুটি পালঙ্ক ছিল। যার একটি চুরি হয়ে গেছে। শিলাইদহ রবীন্দ্র সংসদের নির্বাহী পরিচালক সাথী নজরুল ইসলাম জানান, ১৯৮৪ সালে রহমতউল্লাহ নামের এক ব্যক্তি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হয়ে কুঠিবাড়ির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহূত পালঙ্ক, বই, চেয়ার, টেবিল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার মানুষের হাতে ধরা পড়ে। পরে কোনো এক সময় রহমতউল্লাহ পুনরায় একটি পালঙ্ক চুরি করে নিয়ে যায়।
৩৩ বিঘা জমি নিয়ে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি আঙিনা। তিনতলা এ বাড়িটিতে রয়েছে ১৭টি কক্ষ। বাড়িটির কক্ষ ও বারান্দা জুড়ে প্রদর্শনীর জন্য রয়েছে কবির ব্যবহূত ১টি পালঙ্ক, লেখার টেবিল, ইজি চেয়ার, নদীতে চলাচলের দুটি বোট ‘চঞ্চল’, ‘চপলা’, পালকি, ঘাসকাটা যন্ত্র, পানি শোধন যন্ত্র, বিভিন্ন সময়ে কবিকে ঘিরে তোলা আলোকচিত্র, কবির নিজের আঁকা ছবি ইত্যাদি।
শিলাইদহে বসেই কবিগুরু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনাবলীর অনেকগুলোই রচনা করেছেন। শিলাইদহ কুঠিবাড়ি আঙিনায় এলে বৃক্ষরাজির মাঝে যেন রবীন্দ্রনাথের স্পর্শ পাওয়া যায়, কথাটি বললেন কুমারখালি প্রেস ক্লাবের সভাপতি বাবলু জোয়ারদার।