সাদুল্লাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে ভাঙ্গছে নদীর বাঁধ ও ফসলী জমি
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫১
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সাদুল্লাপুর-নলডাঙ্গা পুরাতন পাকা সড়কের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উত্তর পার্শ্বে ঘাঘট নদীতে পৃথকভাবে দুটি শ্যালো মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলন করা বালু ট্রলি ও ট্রাক্টরযোগে বহন করে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এ কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর দিয়ে ট্রলি ও ট্রাক্টর চলাচল করায় বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে যাচ্ছে। এছাড়া অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী তীরবর্তী ফসলী জমি ভাঙ্গছে। দিনের পর দিন এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কোন ভূমিকা চোখে পড়ছে না।
সরেজমিনে জানা যায়, নদীর মাঝখানে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে ওই বালু পাইপের সাহায্যে দুই হাজার গজ দূরে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় হামিন্দপুর গ্রামের রবীন্দ্রনাথ নামের এক ব্যক্তি পুকুর ভরাট করার দোহাই দিয়ে এবং তার পাশে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করছেন বদলাগাড়ী গ্রামের হাসেন আলী। নদীর মাঝখানে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে ওই বালু পাইপের সাহায্যে দুই হাজার গজ দূরে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানালেন, ওই স্থানে বালু নিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দিন-রাত ট্রলি, মহেন্দ্র ও ট্রাক্টর আসা-যাওয়া করে। বালু সরবরাহের একমাত্র পথই হলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। প্রতিদিন বাঁধের উপর দিয়ে কমপক্ষে ২০/২৫টি ট্রলি, মহেন্দ্র ও ট্রাক্টর আসা-যাওয়া করে। প্রতি ট্রলি বালু ২৫০ টাকা, ট্রাক্টর ও মহেন্দ্র ১২শ ৫০ টাকা বিক্রয় হচ্ছে। এ কারণে প্রায় ২ কিলোমিটার বাঁধ ভেঙ্গে গর্ত ও ধুলায় পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীরা আরো জানান, বালু উত্তোলন বন্ধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ যেমন সম্পূর্ণ ভেঙ্গে যাবে অন্যদিকে প্রতি বছর বর্ষাকালে আশপাশের ফসলী জমি ও নদীর দুই তীরের ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মওলা জানান, সরেজমিন তদন্ত করে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।