সাতক্ষীরায় ‘বাঘবিধবাদের’ পুনর্বাসনের আহ্বান

সাতক্ষীরার সুন্দরবনে ‘বাঘবিধবা’ নারীদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলাধীন গাবুরা অনির্বাণ বিধবা উন্নয়ন সংগঠনের নেত্রীরা। মঙ্গলবার সাতক্ষীরা শহরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান গাবুরা অনির্বাণ বিধবা উন্নয়ন সংগঠনের সম্পাদিকা বাঘবিধবা সুফিয়া খাতুন। উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্সের পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল, বাঘবিধবা হোসনে আরা খাতুন, আছিয়া খাতুন, সোনামনি মন্ডল, রোকসানা বেগম, আনজুয়ারা খাতুন প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে সুফিয়া খাতুন বলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন তিনটি ইউনিয়নে দশ বছরে প্রায় সাড়ে তিনশ’ জেলে বাওয়ালি বাঘের হামলায় নিহত হয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম এসব শ্রমজীবীর মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরা। সাতক্ষীরা থেকে পিরোজপুর পর্যন্ত মোট ২২১টি ইউনিয়নের ১৭টি উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ লোক পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বাঘের হামলার শিকার হচ্ছে বিভিন্ন পেশার মানুষ। এই হিসাবে সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয় জুড়ে বাঘবিধবার সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। শুধুমাত্র সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে বর্তমানে বাঘবিধবার সংখ্যা ৫১৪। সামাজিকভাবেও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে এসব পরিবার। স্বামী বাঘের হামলায় নিহত হওয়ার কারণে অপয়া, অলক্ষ্মী বদনাম নিয়ে স্বামীর ভিটে ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের। সুফিয়া খাতুন আরও বলেন, ২০১০ সালে বন্যপ্রাণীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণ প্রদান আইন পাস হয়েছে। এ আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মৃত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ পাবে। কিন্ত এই আইনের ফলে আগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব পরিবারের পুনর্বাসনে খাস জমি প্রদান এবং অন্যান্য ত্রাণ সুবিধা দেয়া জরুরি। তিনি বলেন- ২০০৭-এর সিডর ও ২০০৯-এর আইলায় এসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের কোন সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়নি।