কাজিপুরে জমজমাট কম্বল শিল্প

সিরাজগঞ্জের উত্তরে যমুনা বিধৌত কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে উন্নতমানের হরেক রকমের বাহারি কম্বল তৈরি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজিপুরের উন্নতমানের অথচ অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী মূল্যের কম্বলের ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সম্ভাবনাময় এ শিল্পটি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় এগুতে পারছে না। যমুনা নদীর ভাঙ্গন কবলিত সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার শিমুলদাইড়, বর্শিভাঙ্গা, কুনকুনিয়া, ঢেঁকুরিয়া, বেলতৈল, মাইজবাড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে বিশেষ করে শিমুলদাইড় বাজারে ব্যাপকভাবে নানা রংয়ের ও সাইজের বাহারি কম্বল তৈরি হচ্ছে। প্রায় দশ বছর আগে থেকে কাজিপুরে বিচ্ছিন্নভাবে এই কম্বল তৈরির শিল্পটি শুরু হলেও বর্তমানে এর ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় দশ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছেন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কম্বল ব্যবসায়ীরা পাইকারী দামে কম্বল কিনতে কাজিপুর আসেন। বর্তমানে এখানে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা মূল্যে কম্বল বিক্রি হচ্ছে। শিমুলদাইড় বাজারের কম্বল কারখানার মালিক সেলিম হোসেন, আবু তালেব, সাজ্জাদ হোসেন ও কারিগর ফারুক, নাসির, হাফিজুর রহমান, আব্দুল জলিল, হেদায়েতুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম জানান, আগে শীত মওসুমের আগে কম্বল তৈরির কাজ শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন প্রায় সারা বছরই কম্বল উত্পাদিত হয়। বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে সংগৃহিত ঝুট উন্নতমানের সেলাই মেশিনে জোড়া লাগিয়ে সিঙ্গেল ও ডাবল কম্বল তৈরি করা হয়। একজন শ্রমিক প্রতিদিন কম্বল তৈরি করে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা মজুরি পান। কম্বল শিল্প নদী ভাঙ্গন কবলিত কাজিপুরে বেকার হয়ে যাওয়া কৃষি শ্রমিক ও ভূমিহীনদের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। তবে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং সরকারি বেসরকারি সহায়তা পেলে এর আরও প্রসার ঘটবে বলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।