উল্লাপাড়ায় রাস্তা দখল করে
আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন
উল্ল¬াপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০০
উল্ল¬াপাড়া পৌরশহরে পৌরসভার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দখল করে গড়ে উঠছে বহুতল মার্কেট ও আবাসিক ভবন। জনবহুল এই শহরে সরু রাস্তাগুলো অবৈধ দখলের কবলে পড়ে আরো সরু হয়ে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি করছে অসহনীয় যানজট। জনসাধারণের চলাচলের এই সড়কগুলো মোটা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে দখল হয়ে গেলেও সংশ্লি¬ষ্ট প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। পৌরশহরের থানা মোড় থেকে মার্চেন্টস হাইস্কুল, থানা মোড় হতে শ্যামলীপাড়া বাসস্ট্যান্ড ও ঘোষগাঁতী এলাকার বিভিন্ন সড়কের দু’পাশে রাস্তা দখল করে গড়ে উঠেছে শতাধিক বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন। জানা গেছে- এ সকল ভবন নির্মাণের শুরুতে পৌর মেয়র, সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর ও প্রকৌশলী বিভাগ বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে মালিকদের সাথে গোপন দেনদরবারের ভিত্তিতে দফারফা হয় এবং বিনাবাধায় ওই সকল ভবন নির্মাণ পুনরায় শুরু হয়। এভাবেই মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে পৌর আইন অমান্য করে জন চলাচল ও জনস্বার্থ সংশ্লি¬ষ্ট সরকারি জায়গাগুলো বেদখল হয়ে যাচ্ছে। পৌর নাগরিকরা যেন ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে জনপ্রতিনিধিদের সরকারি জায়গার মালিকানা করে দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে- ঝিকিড়া বন্দর স্কুলের উত্তর পাশে জনৈক সৌদি প্রবাসী মোতালেব মিয়াকে তত্কালীন পৌর কাউন্সিলর নোটিশ দিয়ে বাড়ির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় এবং ৫০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে পুনরায় কাজ করার অনুমতি মেলে। পৌর কার্যালয়ের সম্মুখে এক আমেরিকা প্রবাসী বাড়ি করতে গিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের নাজেহালের শিকার হয়ে তাকেও লক্ষাধিক টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। শ্যামলীপাড়ায় ৩২ শতক জায়গা ক্রয় করে চারপাশে সরকারি রাস্তা দখল করে ৩৬ শতক জায়গার উপর গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল বাণিজ্যিক ভবন, এর ফলে শ্যামলীপাড়ার সংযোগ সড়কটি চিরদিনের জন্য সরু হয়ে গেছে।
সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ সুলতানুল ইসলাম জানান- কলেজপাড়ায় জনৈক ব্যক্তি মহল্লার রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণ করলে মহল্লাবাসী পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ করলেও সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের সাথে মোটা টাকার বিনিময়ে রফা হয়ে যায়। শহরের কেন্দ্রস্থল শ্যামলীপাড়া ও গুলিস্তান মোড় সংযোগ সড়ক সংলগ্ন জনস্বার্থে ব্যবহূত সরকারি জায়গা বণিক সমিতি ও সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস লিজ নিয়ে গড়ে তুলেছেন ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
সমপ্রতি শ্যামলীপাড়া সড়কে মজুমদার জুয়েলার্স ক্রয় করে সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আকমল হোসেন একই ভাবে রাস্তার জায়গা দখল করে ৫ তলা বাণিজ্যিক ভবন গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। জানা যায় সংশ্লি¬ষ্ট কাউন্সিলর হাসান আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে ভবনের মালিক চেয়ারম্যান আকমল তার ছেলেকে দিয়ে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেন।