মধুখালীর মথুরাপুর দেউল সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে

মধুখালী গাজনা ইউনিয়নে অবস্থিত শত শত বছর আগের পুরাকীর্তি মথুরাপুরের দেউলটি অযত্ন আর অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে। চন্দনা নদীর পূর্ব পাড়ে ফরিদপুর চিনিকলের কয়েক‘শ গজ উত্তরে মথুরাপুর গ্রামে কালের নিরব সাক্ষী শত শত বছর আগের পুরাকীর্তি বা স্থাপত্যশিল্প মথুরাপুরের এই দেউল। প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এই দেউল প্রত্নতত্ত্ব ও যাদুঘরের অধীন। এর শৈলী ও শৈল্পিক কাজ দেখলে চমত্কৃত হতে হয়। পোড়ামাটির তৈরী পাথর আকৃতির শিলাখন্ডগুলি এমন ভাবে গাঁথা হয়েছে যে, কিভাবে কোথা থেকে শুরু হয়েছে তা বুঝা খুবই দুরূহ। দেউলের সারা শরীর জুরে যে সমস্ত শিলাখন্ডের ছাপ চিত্র, মাটির ফলকে রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট মুর্তি যা দর্শনার্থীদের মনোজগেক নাড়া দেয়। কৌতুহলকে দেয় উসেক। সে সব ছাপচিত্র মূর্তি ফলক হল কোন নারী কাউকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে, হনুমান কোন উত্সবে মাতোয়ারা, রণসাজে তীর ধনুক হাতে হনুমান, সিংহের মত মুখ অথচ মানুষের মত হাত এমন প্রাণী। নৃত্যরত নগ্ন নর-নারী, পেঁচা জাতীয় পাখি, মস্তক বিহীন মানুষের আকৃতি, দ্রুতবেগ সম্পন্ন ঘোড়া, মন্দিরে প্রার্থনারত হনুমান, কিছু ইতসত্ততঃ বিক্ষিপ্ত গাছ ইত্যাদি। মথুরাপুরের দেউল কে, কবে, কি উদ্দেশ্যে, কেন তৈরী করে ছিল এ সম্পর্কে তেমন প্রণিধানযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায় না। এ দেউল সম্মদ্ধে বিভিন্ন জন ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন। সারাদেশসহ বিদেশ থেকেও কৌতুহলী পর্যটক এর নির্মাণশৈলী ও শৈল্পিক কলা দেখতে ছুটে আসেন। কিন্তু প্রত্নত্ত্ব ও যাদুঘর কর্তৃপক্ষের এদিকে যেন তেমন নজর নেই। প্রত্নতত্ত্ব ও যাদুঘর কর্তৃপক্ষ যদি দেউল সংলগ্ন স্থানে কোন পিকনিক কর্ণার, বিশ্রামাগার তৈরীর ব্যবস্থা করেন তাহলে এটি আরও ব্যাপকভাবে মানুষের কাছে আকষর্ণের বিষয় বস্তুতে পরিনত হতে পারে।