রাজধানীর পথসভায় খালেদা জিয়া
সাপকে বিশ্বাস করা যায় আওয়ামী লীগকে নয়
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৩
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সাপকে বিশ্বাস করা গেলেও আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করা যায় না। তাদের কাছ থেকে জনগণকে সাবধান থাকতে হবে। তারা দেশ বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় থাকতে চায়। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল আনুন। আমরা সবাই মিলে তা পাস করাবো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস হলে আমরা আর আন্দোলন করবো না।’ তিনি বলেন, ‘সরকার যদি আবার বিদ্যুত্, তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ায় তাহলে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।’
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে সরকার সাজানো নাটক করছে—এমন অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের খুঁজে বের করবো। কারণ, আমরা জানি আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে অনেক যুদ্ধাপরাধী আছে।’ পদ্মাসেতুর দুর্নীতির জন্য সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আবুলকে ধরলেই রুই-কাতলারা বেরিয়ে আসবে’।
গতকাল বুধবার রাজধানীতে ১৮ দলীয় জোটের গণসংযোগ কর্মসূচিতে পৃথক পাঁচটি পথসভায় বেগম খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। সকাল ১১টায় গাবতলী থেকে শুরু হয়ে এ কর্মসূচি একে একে কাওরান বাজার, যাত্রাবাড়ী, বাসাবো ও ভাটারা মাঠে বক্তৃতার মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে শেষ হয়। পাঁচটি পথসভা ছাড়াও খালেদা জিয়া দীর্ঘপথ গণসংযোগ করেন। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ১৮ দলীয় নেতাকর্মীরা নানা ব্যানার ফেস্টুন ধরে সরকারবিরোধী শ্লোগান দেয়। পথসভাগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত এবং শিবিরের নেতাকর্মীদের বেশ উপস্থিতি চোখে পড়েছে। বিভিন্ন পথসভায় দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও ১৮ দলের নেতারা খালেদা জিয়ার সাথে উপস্থিত ছিলেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সকল বিরোধী দল-জোটের কারাবন্দি নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল রাজধানীর বাইরে অন্য ছয়টি বিভাগীয় শহরেও গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করে ১৮ দল।
গাবতলীতে পথসভার শুরুতে খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের নির্ধারিত সময় পার করুন। আপত্তি নেই। কিন্তু তার আগে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করেন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।’ জোটের গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, সরকারি দলের লোকদের সব মামলা প্রত্যাহার করে নিয়ে বিরোধী দলকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। যতই মামলা প্রত্যাহার করুক না কেন তাতে কাজ হবে না। এসব মামলা আবার চালু হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই সরকার কথায় কথায় কোর্টের দোহাই দেয়। কিন্তু আরো দুইবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে বলে কোর্ট রায় দিয়েছে।’ তিনি দলীয় নেতা ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করে বলেন, ‘এখনো সময় আছে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেন। তা না হলে এর জন্য একদিন আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’
গণসংযোগের উদ্বোধনী পথসভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা এস এ খালেক। সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে সকাল ৮টা থেকেই গাবতলীতে জড়ো হতে থাকে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা। কেরানীগঞ্জ, সাভার, মিরপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে পথসভায় যোগ দেয়।
পথসভায় বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইব্রাহিম, যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ তাহের, অধ্যাপক মজিবর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কারওয়ান বাজারে খালেদা জিয়া
কারওয়ান বাজারে গণসংযোগের দ্বিতীয় পথসভায় মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পাশে শেখ হাসিনার বৈঠকের কয়েকটি আলোকচিত্র প্রদর্শন করে জনগণের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, মাওলানা নিজামী তখন রাজাকার ছিলেন না। জনতাকে ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দেখুন, নিজামী তাদের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। শেখ সেলিম আলী আহসান মুজাহিদের সাথে হাত মিলাচ্ছেন। হাসিনা-নিজামী-সাজেদা চৌধুরী বৈঠক করছেন। তখন জামায়াত রাজাকার ছিল না। এখন রাজাকার হয়ে গেছে।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রং পাল্টাতে সময় লাগে না। এরা বহুরূপি। এই আওয়ামী লীগ ৯৬ সালে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। ৮৬ সালে এরশাদের সাথে হাত মিলিয়ে তারা জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে গিয়েছিলো। তখন কি তারা যুদ্ধাপরাধী ছিলো না? তাদের নেতাই তো স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়ে গেছেন। এখন কেন তাদের যুদ্ধাপরাধী বলা হচ্ছে?’
খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বলেন, উনারা বলেন আমরা নাকি আন্দোলন করছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রোধ করতে। এই সব কথা মানুষ বোঝে। আমরা কাউকে বাঁচাতে নয়, দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছি। আমাদের দাবি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। নিত্য ভোগ্যদ্রব্য, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে। ঘরে ঘরে চাকরি দিতে হবে। গুম-খুন বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরাও যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই। তবে সে বিচার স্বচ্ছ হতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। এই রাজনৈতিক জিঘাংসার বিচার নয়। খালেদা জিয়া বলেন, শুধু জামায়াত-বিএনপির মধ্যে যারা আছে তাদের বিচার করলে হবে না। আপনাদের মধ্যেও যুদ্ধাপরাধী রয়েছে। তাদেরও বিচার করতে হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা-মুক্তিযোদ্ধা বলে চিত্কার করে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে বিএনপিই প্রকৃত মুক্তিদ্ধোদের দল। আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে। সিরাজ সিকদার, স্টুয়ার্ড মুজিব, সিদ্দিক মাস্টারকে তারা হত্যা করেছে। এখনো মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করছে তারা।
খালেদা জিয়া বলেন, দুদক আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাংক বলা সত্ত্বেও দুই আবুলকে বাদ দিয়ে মামলা হয়েছে। তারা এখন বিশ্বব্যাংককে শর্ত দিচ্ছে, যদি বিশ্বব্যাংক টাকা দেয় তবে আবুল হোসেনকে ধরা হবে। আসলে তারা চোর ধরার নামে টাকা হাতিয়ে নিতে চাচ্ছে। আবুলকে ধরা হলে আসল ঘটনা ফাঁস হয়ে যাবে। এজন্য তাকে ধরা হচ্ছে না। কারণ কান টানলে মাথা আসবে। তিনি বলেন, আবুল হোসেন উপরের নির্দেশে এই দুর্নীতি করেছে। আর টাকা নিয়ে কাউকে দেয়াটাও অপরাধ। সেজন্য আবুল হোসেনকেও ধরতে হবে। তাকে ধরলে আপুমনি, দিদিমনি, সবাই ধরা পড়ে যাবে। তখন বড় বড় রুই,কাতলাগুলো বেরিয়ে আসবে।
বিরোধী দলের নেতা বলেন, শেয়ারবাজার, হলমার্ক, ডেসটিনি, ভিওআইপির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা কারা লুটপাট করেছে, তা আমরা জানি। আগামীতে এসবের বিচার করা হবে।
মূল ঘটনা উদঘাটন করায় মাহমুদুর রহমানকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলা হচ্ছে। তিনি রাষ্ট্রদ্রোহী নন, দেশপ্রেমিক। আওয়ামী লীগের নেতারা যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কর্মকান্ড চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আগামীতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হবে। আগামীতে মাহমুদুর রহমান বেরিয়ে আসবে। স্কাইপেতে বিচারপতি যা বলেছেন তা ইউটিউব-ইকোনোমিস্ট-এ আগেই বেরিয়েছে। আমার দেশ পত্রিকায় শুধু সেগুলো ছেপেছে।
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার তাদের নেতাকর্মীদের সাত হাজার মামলা প্রত্যাহার ও ২১ জনের ফাঁসি মওকুফ করেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দিচ্ছে। পিলখানা হত্যার লোক দেখানো বিচার করেছে। এই মামলার আসল আসামিদেরও বিচার হবে।
পুলিশকে হুঁশিয়ার করে খালেদা জিয়া বলেন, বিশ্বজিেক হত্যার সময় পুলিশ ঠেকায়নি, অথচ আমাদের লোকজন রাস্তায় নামলে তারা অত্যাচার করে। এ জন্যই কি পুলিশকে জনগণের কর দিয়ে বেতন দেয়া হয়। তিনি বলেন, সরকার বলে তারা দেশকে সোনার বাংলা করছে। বিশ্বজিেক যেভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, পথে-ঘাটে লুটপাট করা হচ্ছে, এরই নাম কি সোনার বাংলা? তারা দেশকে শ্মশানের বাংলায় পরিণত করেছে।
২০ মিনিটে কাওরান বাজারের পথসভা শেষ করে খালেদা জিয়া গণসংযোগ করতে করতে যান যাত্রাবাড়ির শহীদ ফারুক সড়কে। এখানে পথসভা শেষে তিনি চতুর্থ পথসভা করেন সবুজবাগ বালুর মাঠে। বিকেল সাড়ে ৫টায় এখান থেকে তিনি সর্বশেষ পথসভায় যোগ দিতে চলে যান ভাটারায়।
এসব পথসভায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশের বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, তাকে ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সরকারকে তিনি প্রশ্ন করেন, আর কত টাকা আপনাদের দরকার? একসময় এসব টাকা রাখারও জায়গা পাবেন না। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনি এবং আপনার পরিবার দেশ থেকে অর্থ পাচার করেছেন। চোরের মাকে এসব অর্থ কড়ায়-গন্ডায় হিসাব দিতে হবে।
এসব পথসভায় ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা এবং ওয়ার্ড কমিটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী যোগ দেন। বিভিন্ন পথসভায় খালেদা জিয়া পৌঁছানোর আগে ১৮ দলের অন্য নেতা এবং থানা ও ওয়ার্ড কমিটির নেতারা তাদের বক্তব্য শেষ করেন। খালেদা জিয়া পৌঁছেই মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করেন।
এদিকে, যাত্রাবাড়ির পথসভায় সামনে বসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ ও নবীউল্লাহ নবীর সমর্থকদের মধ্যে চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনা ঘটে।
রাজশাহী অফিস
সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নগরীর বিনোদপুর এলাকায় বিএনপির গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে নগরীর তালাইমারী, সপুরাস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মোড়, সাহেব বাজার, লক্ষ্মীপুর এবং কোর্ট এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের ছিল প্রাণবন্ত উপস্থিতি। হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে খোলা জায়গায় ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে হাজারো মানুষ বিএনপি নেতাদের বক্তব্য শোনেন। বিএনপির এই কর্মসূচিতে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরসহ ১৮ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক দলের নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি।
তবে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মহানগরীর তিনটি পয়েন্টে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।
রাজশাহীতে গণসংযোগকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বর্তমান সরকারের কাছে দেশ ও গণতন্ত্র আজ অবরুদ্ধ। জনগণ এর পরিবর্তন দেখতে চায়। তাই সময় এসেছে গণজোয়ার সৃষ্টি করে এই সরকারকে বিদায় দেয়ার। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরে গণসংযোগকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, চলতি বছরের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিয়ে জনগণের কাছে মাথা নত না করলে নতুন বছরের শুরুতেই হরতাল, ধর্মঘট, সড়ক অবরোধ, ঘেরাওসহ লাগাতার আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে দাবি পূরণে বাধ্য করা হবে।
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে মহানগরীর পায়রা চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া, সাবেক এমপি রেজিনা ইসলাম, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি লুত্ফর রহমান মিন্টু, শহিদুল ইসলাম মিজু, সামুজ্জামান সামু, রইচ আহমেদ, আনিসুর রহমান লাকু, মাহফুজ-উন-নবী ডন, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুস সালাম, জহির আলম নয়ন, মনিরুজ্জামান হিযবুল, আতিকুল ইসলাম লেলিন প্রমুখ।
এর আগে গণসংযোগে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা গ্রান্ড হোটেল মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়। পরে মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে সেখান থেকে একটি বিশাল মিছিল বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় সড়কের দু’ধারের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ পথচারী ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
বরিশাল অফিস
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে রাজনৈতিক বাহানা। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে চুরি ও খুনের দায়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের যতদিন আয়ু থাকবে ততোদিন কারাগারে কাটাতে হবে।
গতকাল ১৮ দল আয়োজিত গণসংযোগের পূর্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি। বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য মেজবা উদ্দিন ফরহাদ, সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান, মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রমুখ।
পরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে নগরীর সদর রোড, বাকলার মোড়, ফলপট্টি ও চৌমাথা এলাকায় গণসংযোগ করা হয়।
চট্টগ্রাম অফিস
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামে গণসংযোগকালে গতকাল বন্দর নিমতলা, অলংকার মোড়, লালদীঘি চত্বর ও মুরাদপুরে ৪টি পথসভায় বক্তব্য রাখেন। পথ সভাগুলোতে দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে বিএনপিসহ জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জমায়েত হয়। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার প্রদর্শন করেন।
পথসভায় খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই আওয়ামী লীগ এ পদ্ধতি বাতিল করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পূরণে জনগণই এ সরকারকে বাধ্য করবে।
এ সময় নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল না করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। পথসভাগুলোতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, গোলাম আকবর খন্দকার, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, আসলাম চৌধুরী, আ ন ম শামসুল ইসলাম এমপি প্রমুখ।
খুলনা অফিস
সকাল ১০টায় নগরীর রূপসা ট্রাফিক মোড়ে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের গণমিছিল শুরু হয়। দুপুরে গণমিছিলটি নিউমার্কেট চত্বরে গিয়ে পৌঁছায়। এখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মিছিলটি নগরীর খালিশপুর প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিল গেট হয়ে দৌলতপুর ও ফুলবাড়ি গেট জনতা মার্কেট চত্বরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। গণসংযোগ চলাকালে ড. আব্দুল মঈন খানসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ মহাজোট সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে ১৮ দলীয় জোটের লিফলেট বিতরণ করেন। গণসংযোগকালে অনুষ্ঠিত পাঁচটি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি।
সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি এম নূরুল ইসলাম, মসিউর রহমান, মাওলানা এমরান হোসাইন, এডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু, মুহাদ্দেস আবু সাইদ, মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, এডভোকেট গাজী আব্দুল বারী, অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হক প্রমুখ।
সিলেট অফিস
সিলেটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ারের নেতৃত্বে গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের সরকার নয়। বিএনপির নেতৃত্বে দেশে জনগণের সরকার কায়েম হলে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত আবুল-কাবুল সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
১৮ দলীয় জোট সিলেট মহানগর আহবায়ক এম এ হকের সভাপতিত্বে পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাখাওয়াত হোসেন জীবন, ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, দিলদার হোসেন সেলিম, কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, বদরুজ্জামান সেলিম, এডভোকেট আবদুল গফ্ফার, আরিফুল হক চৌধুরী, আবুল কাহের শামীম, ফজলুল হক আসপিয়া প্রমুখ। গণসংযোগকালে জামায়াত নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমান, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, হাফিজ আব্দুল হাই হারুনসহ ১৮ দলের জেলা ও মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বেলা ১১টায় নগরীর বন্দরবাজার রংমহল পয়েন্ট থেকে সিলেটে গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এম কে আনোয়ার। রংমহল পয়েন্টে পথসভার মাধ্যমে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরুর পর নগরীর কোর্ট পয়েন্টে হয় আরেকটি পথসভা। এরপর মিছিল সহকারে নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টে গিয়ে আরেক পথসভার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।