জবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে

বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যে কোন সময় তাদেরকে বিশ্বজিত্ হত্যা মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) সামনে হাজির করা হবে। এ মামলায় গ্রেফতারকৃতরা ইতিমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে তারা বিশ্বজিতের উপর হামলা চালিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দুই নেতা চাইলে বিশ্বজিেক মারা পড়তে হতো না। এদিকে গতকাল বুধবার ইমদাদের রিমান্ডের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। ৯ ডিসেম্বর অবরোধ চলাকালে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে মিছিলকারীদের একাংশ নিরীহ পথচারী বিশ্বজিত্ দাসকে কুপিয়ে, পিটিয়ে হত্যা করেছে। ঘাতকরা চাপাতি, ছুরি, রড ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে বিশ্বজিেক। সে সময় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চাইলে ঘাতকদের হাত থেকে বিশ্বজিতকে রক্ষা করতে পারতেন। তা না করে সভাপতি শরীফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেছেন। ঘাতকদের ক্যাম্পাসে মদদ দিতেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ছিনতাই, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যে আয় হতো তার থেকে এই দুই নেতা ভাগ নিতেন। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের পর এ বিষয়গুলো মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। এ ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। হামলাকারী জামায়াত-শিবিরকর্মীকে ছাত্রলীগের কর্মী বানানোর বিষয়টি প্রকাশ পায়। বিশ্বজিতের ঘাতকদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের তাওসীন শিবির নেতা ছিলেন। রফিকুল ইসলাম শাকিল ওরফে চাপাতি শাকিল পটুয়াখালী থাকাকালে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার ভাই বর্তমানে সেখানকার যুবদল নেতা। ইমদাদুল যশোরে থাকাকালে শিবিরের কর্মী ছিল। তার ভাই ও চাচা বর্তমানে জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। হামলাকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের নেতারা। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে বিষয়গুলো। সাইফুল ইসলাম, এইচএম কিবরিয়া ও মো. কাইয়ুম মিয়া টিপুকে দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ডিবির কর্মকর্তারা।