ট্রাইব্যুনালে আযাদের বিরুদ্ধে রায় যে কোন দিন

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পর এবার জামায়াতের সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে আনীত মামলার বিচারকাজ শেষ হয়েছে। যে কোন দিন এ মামলার রায় হতে পারে বলে জানিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ সংক্রান্ত আদেশে গতকাল বুধবার বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের সুবিধাজনক যে কোন দিন এ রায় ঘোষণা করা হবে। রায়ের দুই এক দিন আগে তারিখ জানিয়ে দেবে ট্রাইব্যুনাল। আদেশের আগে এ মামলায় আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর দ্বিতীয় মামলা হিসেবে আযাদের মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রইল। আসামি আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু এখন পলাতক রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ শেষ হয়েছে। এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত যুদ্ধাপরাদের মামলার বিচারকাজ শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় অপেক্ষমান রাখে। মামলার বিচারকাজ শেষ হওয়ার বিষয়ে কৌঁসুলি সাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে মোট ৮টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ওইসব বিষয়ে আমরা সাক্ষী ও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছি এবং আনীত অপরাধ প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানে আমরা আর্জি পেশ করেছি। আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। গতকাল আইনি যুক্তি উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রপক্ষের অপর কৌঁসুলি সৈয়দ হায়দার আলী বিচার ৪১ বছর বিলম্বিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য দালাল আইন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দালাল আইন আদেশ বাতিল করা হয়। এরপর কোন সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়নি। ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করায় এ বিচার হচ্ছে আসামিপক্ষের এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কোন রাজনৈতিক দলের বিচার করছি না। আর যাদের বিচার করা হচ্ছে, তারা সবাই জামায়াতে ইসলামীর নেতাও নন। ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল আযাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা নূর হোসেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রাষ্ট্রপক্ষ গত ২৫ মার্চ আবুল কালাম আযাদকে গ্রেফতারের আবেদন করে। ২ এপ্রিলের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আযাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু উত্তরখানের বাসা থেকে আযাদ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। যদিও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আগেই তাকে নজরবন্দি করে রেখেছিলো গোয়েন্দা পুলিশ। গত ২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৯ সেপ্টেম্বর আযাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ২৫ সেপ্টেম্বর আযাদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তিনি হাজির হননি। পরে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু হয়। ৭ অক্টোবর পলাতক আযাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স সুপ্রিম কোর্টের মো. আবদুস শুকুর খানকে নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল। গত ৪ নভেম্বর হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, দেশান্তরি, ধর্মান্তরিতকরণসহ আটটি অপরাধের দায়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ২৬ নভেম্বর আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ৩৩ পৃষ্ঠার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর ওইদিনই তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা নূর হোসেনসহ মোট ২২ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে এক নারী সাক্ষী ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আবদুর শুকুর খান তাদের জেরা শেষ করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ২২ জন সাক্ষ্য দিলেও আসমিপক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করা সম্ভব হয়নি।