৩৫ ব্যাংকের আবেদন বাতিল করলো যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ার আর্থিক বিবরণী জমা দিতে আগ্রহী বাংলাদেশের ৩৫ ব্যাংকের আবেদন বাতিল করে দিয়েছে দেশটির সীমান্ত কর্তৃপক্ষ (ইউকে বর্ডার এজেন্সি)। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ বা অন্য কাজে যাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি ব্যাংক নির্দিষ্ট করে দেয়ায় পর এসব ব্যাংক তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। তবে নতুন করে আবেদন করা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করেছে বর্ডার এজেন্সি। সূত্রমতে, গত অক্টোবর মাসে ইউকে বর্ডার এজেন্সি ভিসা প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে ১৩টি ব্যাংক নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল। যা গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করার কথা ছিল। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। একইসঙ্গে বাংলাদেশের অন্যান্য ব্যাংক ভিসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার জন্য ইউকে বর্ডার এজেন্সির কাছে আবেদন করে। তবে শুধু শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের আবেদন গ্রহণ করে বাকিদের আবেদন বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এতে ১৩ ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ১৪টি ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী জমা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পছন্দের তালিকায় বিদেশি মালিকানাধীন ৫ ব্যাংক এবং বেসরকারি মালিকানাধীন ৯ ব্যাংক রয়েছে। বিদেশি মালিকানায় পরিচালিত ব্যাংকগুলো হলো- স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হংকং-সাংহাই ব্যাংক কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি), কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ও সিটি ব্যাংক। আর বেসরকারি খাতের ব্যাংক হলো- এবি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। অল্প কয়েকটি ব্যাংককে এ সুযোগ দেয়ার কারণে যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের এসব ব্যাংকে একাউন্ট নেই তাদেরকে তালিকাভুক্ত ব্যাংকে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে নির্দিষ্ট সময় পার করে আর্থিক বিবরণী নিতে হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়ছেন অনেকে। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভিয়েনা কনভেনশন, ১৯৬১-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া সরকার যেসব ব্যাংককে আর্থিক কাজের জন্য অনুমোদন দিয়েছে তাদের অবৈধ করার অধিকার কোন দেশ রাখে না বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।