পাবনা চিনিকলে ৬শ’ টন চিনি অবিক্রিত
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৫
শত কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে চলতি আখ মাড়াই মৌসুমে পাবনা চিনিকল চিনি উত্পাদন শুরু করলেও গত মঙ্গলবার হঠাত্ করেই বয়লারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মিলের উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার বিকেলে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে উত্পাদন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিগত মৌসুমের উত্পাদিত ৬১৫ মেট্রিক টন অবিক্রিত চিনি মজুদ থাকা অবস্থায় মিলটি চলতি মৌসুমে উত্পাদন শুরু করে। অবিক্রিত এই চিনির দাম মিল রেট অনুযায়ী ৩ কোটি টাকারও বেশি বলে জানা গেছে। চিনি অবিক্রিত থাকায় আর্থিক সংকটের কারণে চলতি মৌসুমে ক্রয়কৃত আখের মূল্য মিল কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করতে পারছে না। এছাড়া কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধের ক্ষেত্রেও দীনতা দৃশ্যমান। মিল সূত্র জানায়, চিনির বিপুল পরিমাণ মজুদ কর্তৃপক্ষের নিকট বোঝা হয়ে আছে। জানা যায়, স্থানীয় বাজারে দেশীয় মিলে উত্পাদিত চিনির দাম বেশি। পক্ষান্তরে বিদেশ হতে আমদানিকৃত চিনির বাজারদর অপেক্ষাকৃত কম। যে কারণে পাবনা চিনিকলে উত্পাদিত চিনির চাহিদাও বাজারে কম। ফলে শুধু এই মিলের চিনিই নয়, দেশের অন্যান্য মিলের চিনিও বিপুল পরিমাণ অবিক্রিত অবস্থায় গুদামে পড়ে আছে। মিলের এমডি আমজাদ হোসেন জানান, পাবনা চিনিকলে অবিক্রিত চিনির পরিমাণ অন্যান্য মিলের তুলনায় কম। চিনি অবিক্রিত থাকায় কিছুটা আর্থিক সংকট দেখা দিলেও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে মিলের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি জানান। ১৯৯২ সালে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া মৌজায় ৬০ একর জমির উপর পাবনা সুগার মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর হতে বিগত ১৭ বছরে এই মিলে ধারাবাহিক লোকসানের পরিমাণ ১১২ কোটি টাকা। বিপুল লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই চলতি মৌসুমে ৭০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চলতি মাসের ৬ ডিসেম্বর ঢাক-ঢোল পিটিয়ে উত্পাদন শুরু করে।
আখ স্বল্পতার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে ইতিমধ্যেই মিল কর্তৃপক্ষ আশংকা ব্যক্ত করেছেন।