শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সুপারিশমালা তৈরি করছে বিএসইসি

দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা তৈরি করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাজারে তারল্য সঙ্কট দূর করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিএসইসি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রণয়ন করে তা কমিশনে দাখিল করবে। গতকাল কমিশনের ৪৬২তম নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা তৈরির লক্ষ্যে ২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন, কমিশনের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম এবং পরিচালক মাহাবুবুল আলম। বাজার সংশ্লিষ্টরা বেশ কিছুদিন ধরেই বাজারে তারল্য সঙ্কট দূর করতে ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উপর জোর দিয়ে আসছিলেন। কারণ দেশের বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় তারা বাজারে নতুন বিনিয়োগ করতে পারছেন না। তারল্যের সঙ্কটের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বাজারে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগই হতে পারে বাজার স্থিতিশীলতার নিয়ামক। বাজার সংশ্লিষ্টদের এ ধরনের মতামতের প্রেক্ষিতে বিএসইসি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে। সুপারিশমালা তৈরি করে যথাযথভাবে পদক্ষেপ নিতে পারলে আগামীতে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে পারে। যা বাজারের জন্য ইতিবাচক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকালের কমিশন সভায় আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থতার জন্য ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসইসি জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থতার জন্য ৬ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রত্যেক পরিচালককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সজিব নিটওয়্যার অ্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেড, পারফিউম কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ফার্মাকো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, রোজ হ্যাভেন বলপেন লিমিটেড, এম. হোসেন গার্মেন্টস ওয়াসিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড এবং রাসপিট বাংলাদেশ লিমিটেড। এছাড়া কমিশনের সভায় ইবিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অচিরেই এ জন্য তাদের লেটার অব ইনটেন্ড দেয়া হবে। আর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সুপারিশের প্রেক্ষিতে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদকে ডিসটিংগুইশড পার্সন ক্যাটাগরিতে ডিএসই’র পরিচালক হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) রেগুলেশন, ২০০০ অনুযায়ী এ অনুমোদন দেয়া হয়।