ছোটদের বড় সাফল্য

পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী এবং অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল পরীক্ষার (জেডিসি) ফল গতকাল বৃহস্পতিবার একসাথে প্রকাশিত হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে এ ফল প্রকাশ করে। এবার প্রাথমিকে ৯৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ইবতেদায়িতে ৯২ দশমিক ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। এছাড়া জেএসসিতে ৮৬ দশমিক ১১ শতাংশ এবং জেডিসিতে ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। অষ্টম শ্রেণীর এই সমাপনী পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার ৮৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. মোতাহার হোসেন গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরে বেলা ১১ টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক ও ইবদেতায়ি পরীক্ষার ফল এবং ১২ টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জেএসসি-জেডিসির ফল প্রকাশ উপলক্ষে পৃথক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রায় একই সময় স্কুলগুলোতেও ফল পৌঁছে যায়। এবারের ফলে উচ্ছ্বসিত উভয় মন্ত্রণালয়, বোর্ড ও অধিদপ্তর। এবার প্রাথমিকে ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৯০৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়ার জন্য তালিকাভুক্ত হয়। পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৪ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ জন। আর পাস করে ২১ লাখ ১৫ হাজার ৩৪১ জন পাস করে। ইবতেদায়িতে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষা দেয়ার জন্য তালিকাভুক্ত হয়। পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭৩ জন। পাস করে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৪৯৪ জন। জেএসসি-জেডিসিতে ১৯ লাখ ১০ হাজার ৫০৮ জন পরীক্ষা দেয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করে। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ৪১ হাজার ৭২৬ জন। পাস করে ১৬ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জন। প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ২২০ জন, ইবতেদায়িতে ২ হাজার ২৯০ জন। জেএসসিতে ৪৪ হাজার ১৫৮ ও জেডিসিতে ২২ হাজার ৭৮৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় প্রথম হয়েছে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং জেএসসির সেরা তালিকায় প্রথম হয়েছে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ। আর দুটি শ্রেণীর পাবলিক পরীক্ষায়ই সেরা হয়েছে বরিশাল বিভাগ ও বোর্ড। গতকাল ফল প্রকাশের সাথে সাথে ভাল ফলাফল অর্জনকারী স্কুলগুলো খুশির জোয়ারে ভেসে যায়। পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ছিল আনন্দের বন্যা। ফল সংগ্রহের জন্য বাবা-মাকে নিয়ে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয় স্কুল প্রাঙ্গণে। ফল ঘোষণার সাথে সাথে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সবচেয়ে বেশি খুশি ছিল বাবা-মা। নামি-দামি স্কুলগুলোতে ছিল অন্যরকম উত্সব। ড্রামের তালে তালে নেচে-গেয়ে শিশুরা আনন্দ উচ্ছ্বাস করে । নিজের সাফল্য জেনে বাবা-মাকে জড়িয়ে কান্না শুরু করে দেয় অনেকে। গতকাল ফল প্রকাশের পরপরই মিষ্টির দোকানে ছিল উপচেপড়া ভিড়। দুপুরের পর পরই অনেক দোকানের মিষ্টি শেষ হয়ে যায়। মোবাইল ফোন এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা ফল সংগ্রহ করে।