উত্তরা ফ্ল্যাট পাচ্ছেন ৬ হাজার ৮৬ জন

সরকার প্রতিশ্রুত উত্তরা তৃতীয় পর্যায়ে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেতে যাচ্ছেন ভাগ্যবান ৬ হাজার ৮৬ জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ফ্ল্যাট প্রাপ্ত ভাগ্যবানদের তালিকা আগামীকাল সংবাদপত্রের মাধ্যমে রাজউক প্রকাশ করবে। উল্লেখ্য, মোট ফ্ল্যাটের চেয়ে আবেদনপত্র কম থাকায় সকল বৈধ আবেদনকারী ফ্ল্যাট পেতে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ ২০১৪ সালের মধ্যে শেষ হবার কথা রয়েছে। এই প্রথমবারের মত রাজউক প্লটের পরিবর্তে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর উত্তরায় প্লটের পরিবর্তে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, উত্তরা আবাসিক এলাকার তৃতীয় পর্ব প্রকল্পে ১৮ নং সেক্টরে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে সাড়ে ৬ হাজার ফ্ল্যাট বরাদ্দের ঘোষণা সরকার দেয়। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী আবেদনপত্র আহবান করা হয়। রাজউকের উত্তরার ফ্ল্যাটের জন্য ৬ হাজার ১০০টি আবেদন পড়ে। এসব আবেদনের মধ্যে থেকে ৬ হাজার ৮৬ জনকে ফ্ল্যাট দেয়া হচ্ছে। রাজউকের উত্তরায় ‘এ’ ক্যাটাগরির এই ফ্ল্যাটের প্রতিটির আয়তন হচ্ছে ১৬ শ’ ২০ বর্গফুট। দায়িত্বশীল সূত্র মতে, এসব ফ্ল্যাটের মূল্য প্রতি বর্গফুট সাড়ে ৩ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হতে পারে। যা বাজার মূল্যের অর্ধেকের চেয়ে কম। রাজউকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ১৮ নং সেক্টরে এ ব্লকে ‘এ’ ক্যাটাগরির সাড়ে ৬ হাজার ফ্ল্যাটের জন্য ১৬ তলা করে ৮৯ টি ভবন নির্মাণ করা হবে। কোরিয়ান একটি কোম্পানি এবং এনা প্রপার্টি ও প্রিয়প্রাঙ্গণ নামের দেশীয় ২টি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণ করবে। এসব ফ্ল্যাটের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬ শ’ কোটি টাকা। এছাড়া খুব শীঘ্রই ১৮ নং সেক্টরের বি ও সি ব্লকে ১৪ শ’ বর্গফুট ও ১১ শ’ বর্গফুট আয়তনের আরও ১৪ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এসব ফ্ল্যাট হবে ১৬ তলা বিশিষ্ট এবং মোট ভবনের সংখ্যা হবে ৭২টি করে মোট ১৪৪টি। শীঘ্রই ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরির ফ্ল্যাটের জন্য আবেদনপত্র আহবান করা হবে। এ ব্যাপারে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। বি ও সি ব্লকের জন্য মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, এ, বি ও সি ক্যাটাগরির ফ্ল্যাটের জন্য মোট ব্যয় হবে ৮ হাজার ৬ শ’ কোটি টাকা। সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে এসব অর্থ দেবে এবং ইতিমধ্যেই একনেক এসব প্রকল্পে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে।