জেএসসিতে এবারও দেশসেরা রাজউক উত্তরা মডেল

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় এবারও শ্রেষ্ঠত্বের আসনটি নিজেদের দখলে রেখেছে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। টানা দুইবার দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করলো প্রতিষ্ঠানটি। এই স্কুল থেকে এবার শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২৭ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের পর পরই বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে উঠে স্কুলটির শিক্ষার্থীরা। সেই আনন্দে যোগ দেন শিক্ষক-অভিভাব-কেরাও। এবার জেএসসি পরীক্ষায় দেশসেরা বিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টিই ঢাকা মহানগরীর। তাই রাজধানীতে আনন্দের মাত্রাও ছিল বেশী। গতকাল শীতের আলস্য কাটিয়ে ছবি তুলে, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে, মিষ্টিমুখ করিয়ে, শুভেচ্ছা এসএমএস পাঠিয়ে এমনকি রং ছিটিয়ে নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগ করে নেয় বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা। গত বছরও জেএসসি পরীক্ষায় দেশসেরা স্কুলগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে ছিল রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এবার স্কুলটির ৩৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২৭ জন। বাংলা মাধ্যমের প্রভাতি শাখা থেকে মোট ১০০ জনের মধ্যে ৯৫ জন এবং দিবা শাখা থেকে ৩০১ জন পরীক্ষা দিয়ে ৯৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ইংরেজি শাখার প্রভাতি থেকে ৯৯ জন অংশ নিয়ে ৭৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। দিবা শাখা থেকে ৮৭ জনের মধ্যে ৬৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফল সম্পর্কে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমামুল হুদা বলেন, টানা দ্বিতীয়বারের মতো জেএসসির ফলাফলে রাজউক তার অবস্থান ধরে রাখতে পারায় আমরা খুবই খুশি। নিয়ম-শৃংখলা সঠিকভাবে অনুসরণ, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আন্তরিকতা আর অভিভাবকদের চেষ্টায় এ ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। নিজেদেরকে ছাড়িয়ে যেতে আমরা বদ্ধপরিকর। আগামীতে আরো ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেন তিনি। দ্বিতীয় সেরা ভিকারুননিসা : জেএসসিতে এবছর দ্বিতীয় সেরা স্থানটি অর্জন করেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ। এই স্কুলের এক হাজার জন ৫২৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১ হাজার ৫২৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৭২ জন। এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায়ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাই গতকাল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল বাঁধভাঙা আনন্দ। ফলাফল সম্পর্কে অধ্যক্ষ মঞ্জুআরা বেগম বললেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। আগামিতে আরো ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তৃতীয় ময়মনসিংহ জিলা স্কুল : দেশসেরা বিদ্যালয়ের তালিকায় তৃতীয় হয়েছে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। এই স্কুল থেকে ২৭৫ জন শিক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২১ জন শিক্ষার্থী। চতুর্থ ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজ ময়মনসিংহের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ৫১জন ছাত্রীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭জন। পঞ্চম আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ :রাজধানীর অন্যতম সেরা এ প্রতিষ্ঠান থেকে এবার এক হাজার ৪৫৮ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। দুই জন বাদে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯২১ জন। অধ্যক্ষ শাহানা আরা বলেন, বরাবরের মতোই ভালো করা প্রচেষ্টা ছিল আমাদের। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং শৃংখলা বজায় রাখার কারণেই এ সাফল্য অর্জন করেছি। ষষ্ঠ রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ :তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৪১৬ জন। ইংরেজি ও বাংলা ভার্সন মিলিয়ে জিপিএ-৫ পয়েছে ২৭৯জন। অধ্যক্ষ কর্নেল মো. মোসলেহ উদ্দিন ভূঁঞা বললেন, স্কুলের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বোর্ড অব গর্ভনরস, সুদক্ষ শিক্ষা প্রশাসন এর দিক-নির্দেশনা, ছাত্রদের পাঠ নিয়মিত মনিটরিং ও একাধিক মডেল টেষ্ট গ্রহণ এ বছর প্রশংসনীয় ফলাফল অর্জনে সহায়ক হয়েছে। অভিভাবকদের সচেতনতা ও ছাত্রদের একনিষ্ঠ অধ্যয়নও এই ফলাফলের পেছনে বিশেষ অবদান রেখেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সপ্তম মাইলস্টোন কলেজ :জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় তুরাগের মাইলস্টোন কলেজ থেকে ৮৯৬ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এরমধ্যে ৪৯৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ সহিদুল ইসলাম বলেন, অন্যরা যখন ভালোদের নিয়ে ভালো করছে, তখন মাইলস্টোন কলেজ একটু কম মেধাবীদের নিয়ে যথেষ্ট পরিশ্রমের পর ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। অষ্টম বিদ্যাময়ী সরকারি গার্লস হাইস্কুল :ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি গার্লস হাইস্কুল থেকে ২৮০ জন ছাত্রীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯৯ জন। নবম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ :টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের এ প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৫৮জন। উত্তীর্ণের হার শতভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৮ জন শিক্ষার্থী। দশম বিন্দুবাসিনী সরকারি গার্লস হাইস্কুল :টাঙ্গাইল সদরের এই স্কুল থেকে ২৫৩ জন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭১ জন ছাত্রী। এছাড়া ১১ থেকে ২০তম স্থান অর্জনকারী দেশসেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে: রাজধানীর সেন্ট জোসেফ হাইস্কুল, হলিক্রস গার্লস হাইস্কুল, টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, ঢাকার মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ এবং মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।