কাফনের কাপড়
পাঠিয়ে বিচারককে
হত্যার হুমকি
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪১
চিঠির মধ্যে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম বিকাশ কুমার সাহাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে এবার।
‘পুলিশের পর বিচারকরা টার্গেট’ উল্লেখ করে ‘নেতাকর্মীদের’ হয়রানি না করার জন্য ওই চিঠিতে হুঁশিয়ার করা হয়েছে বিচারকদের। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় মুখ্য মহানগর হাকিম বিকাশ কুমার সাহার নামে ডাকযোগে পাঠানো ওই চিঠি আদালতে পৌঁছায়। আদালতের নাজির মো. মাহবুবুল আলম সেটি গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, খামের মধ্যে এক টুকরা সাদা কাপড়সহ টাইপ করা একটি চিঠিতে হুমকি দেয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে “তোদের সময় শেষ। তোরা নিজেদের কি ভাবিস? তোদের মিথ্যা বিচার আমরা মানি না। তোরা সরকারের পালিত কুকুর। এবার বুঝবি কত ধানে কত চাল। তোদের যা দিব, তা সহ্য করতে পারবি না। তোদের সাথে শয়তানের দোস্তি। তোরা প্রশাসনের কাছে গেছস ক্যান? দেখি, তোদের প্রশাসন বাবারা তোদের কি হেলপ করে। তোরা পুলিশের পর আমাদের হাই টার্গেট। তোদের শিক্ষা দিবার জন্য আমাদের লোকজন মাঠে কাজ করছে। আর একজন নেতাকর্মীকে তোরা হয়রানি করলে তোদের একটা কিছু হারাবি। আমাদের কাজ শেষ হবেই হবে... ইনশাল্লাহ।”
এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের জামিন না দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ এনে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমসহ ২৬ বিচারককে মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে রগকাটার হুমকি দেয়া হয়। ওই ঘটনায় থানায় জিডি করা হলেও অপরাধীরা গ্রেফতার না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন নাজির মাহবুবুল আলম। অবিলম্বে হুমকিদাতাদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দেয়ার ঘটনায়ও কোতয়ালি থানায় একটি জিডি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারক ও মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের এ ধরনের হুমকি দেয়া হয়। এছাড়া যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর সময় আইন প্রতিমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বেশ কয়েকজনকে হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বোমা হামলা চালিয়ে বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহমেদকে হত্যা করে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যরা। ওই মামলায় জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ, ইফতেখার আল মামুন, আসাদুল ইসলাম আরিফের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয় আদালত।