বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক

চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশও এটি। গত তিন দশক ধরে দেশটির গড় প্রবৃদ্ধি হার ১০ শতাংশের বেশি। বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর শীর্ষে আছে চীন। বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশও চীন। রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি অর্জনের কৌশল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সমাজতান্ত্রিক দেশটির এ অব্যাহত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ম্যাজিক তেমন কিছুই না, অর্থনৈতিক সংস্কার। যার সূচনা হয়েছিল ১৯৭৯ সালে দেং জিয়াওপিং-এর নেতৃত্বে। ১৯৯০’র দশক থেকে সংস্কার কাজ এগিয়ে নিয়ে গেছেন জিয়াং জেমিন এবং হু জিনতাও। তারা বৈদেশিক বিনিয়োগ উন্মুক্ত করেছেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারি খাতের সাথে প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ২০১৩ থেকে পরবর্তী এক দশক দেশটির নেতৃত্ব দেবেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নবনির্বাচিত সেক্রেটারী জেনারেল ও শীর্ষ নেতা জি জিনপিং । চীনের এই সংস্কার কোনো বাধা-ধরা নীতি-পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নয়। পলিটব্যুরো প্রতি বছরই আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করেন। তাই চীনের অর্থনৈতিক সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। পুঁজিবাদী অর্থনীতির উপাদানগুলো সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে চীন এগিয়ে যাচ্ছে। যা পুঁজিবাদী দেশগুলোর জন্য বিরাট গবেষণার বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। চীনের অর্থনৈতিক উত্থানের ফলে বিশ্বের সর্ববৃহত্ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে সবাই চীনমুখী হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশেরই চীনের বিরুদ্ধে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতি, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পগুলোকে ভর্তুকি ও বিভিন্ন সুবিধা প্রদান, মুদ্রার মূল্যমান হ্রাস, মেধাস্বত্বকে গুরুত্ব না দেয়া, আন্তর্জাতিক শ্রমনীতি মেনে না চলা, কার্বন নিঃসরণজনিত পরিবেশ দূষণরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া, মানবাধিকার ও সুশাসনকে গুরুত্ব না দেয়াসহ বিস্তর অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগ চীন নিজের মতো করে দেখছে এবং নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে। নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে চীনকে এখন আর অবহেলা বা দূরে সরিয়ে রাখার অবকাশ নেই। যদিও চীনে এখনো তথ্যের অবাধ প্রবাহ নেই। জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। তাতে কি! বাস্তবতা হচ্ছে, চীন এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর অর্থনীতি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কাউন্সিল গত সপ্তাহে পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে টপকিয়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। তা সত্ত্বেও বেইজিংয়ের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, চীন এখন বিশ্বের সবচেয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্যের দেশ। সম্পদের মালিকানা ও ভোগে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বিরাট ব্যবধান তৈরি হয়েছে এবং ক্রমেই তা বাড়ছে। চীনের এ পরিস্থিতিকে আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, বৈষম্য হ্রাসে সরকারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যেকোনো সময় ১৩০ কোটি মানুষের দেশটিতে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। যদিও নবনির্বাচিত কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান জি জিনপিং বাজার অর্থনীতির প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি অর্থনীতির ক্ষেত্রে আরো উদার নীতি অনুসরণ করবেন বলে আভাস দিয়েছেন। টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির উপর জোর দেবেন বলে জানিয়েছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ভূমিকা কিছুটা কমিয়ে আনা হবে এবং অর্থনীতিকে আরো উন্মুক্ত করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে চীনের প্রতিবেশী না হলেও খুব কাছের একটি দেশ। আমাদের প্রতিবেশী ভারত, মায়ানমার, নেপাল ও ভুটান চীনেরও প্রতিবেশী। পড়শী একটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের এ অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। সেই সম্ভাবনা নিরূপণে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা যায়। চীনের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ ভাল। তবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রায় পুরোটাই চীন থেকে আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। রপ্তানির পরিমাণ খুব সামান্যই। চীন বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ আমদানিকারক দেশ। সারণীতে চীনের সাথে বিগত পাঁচ বছরের আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ দেখানো হয়েছে। এতে দেখা যায়, চীনে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ খুব কম হলেও আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি। দেশের মোট আমদানির ১৮-১৯ শতাংশ আসে চীন থেকে। প্রধান প্রধান আমদানি-পণ্যের মধ্যে আছে তুলা, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি, শিল্প মেশিনারি ও যন্ত্রপাতি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও স্টীল, ইলেকট্রিক্যাল মেশিনারি ও যন্ত্রপাতি, প্রসাধনী সামগ্রীর কাঁচামাল, জাহাজ ও অন্যান্য জলযান, চিনি, প্লাস্টিক, গম ও কর্ন, যানবাহন, বস্ত্র, জৈব ও অজৈব রাসায়নিক পদার্থ, কাগজ, ট্যানারি শিল্পের কাঁচামাল, পশুখাদ্যের কাঁচামাল, তৈলবীজ, ডেইরী প্রোডাক্টস, তৈরি পোশাকের সহায়ক সামগ্রী, চশমার সামগ্রী, রাবার, অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রী ও কফি। এই বিশাল আমদানির বড় অংশই শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হয়। তাই এই আমদানি দেশের অর্থনীতির জন্য সহায়কই বলা যায়। চীনের পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম। তাই সরকারি কেনাকাটায় চীনে উত্পাদিত পণ্যের আধিক্য বেশি। এমনকি সেনাবাহিনীর জন্য ট্যাংকও চীন থেকে কেনা হয়েছে। অনেক মিলিটারি পণ্যই চীন থেকে কেনা হয়। অপরদিকে চীনে রপ্তানিপণ্যের মধ্যে আছে নিট ও ওভেন পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিপণ্য, রাসায়নিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য। বিগত দুই বছর ধরে চীন থেকে আমদানি বৃদ্ধির পাশাপাশি চীনে রপ্তানিও বেড়েছে। তবে এ বৃদ্ধি আমদানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় খুব কম। প্রতিবছরই বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে তা সর্বোচ্চ ৬০৫ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যদিও গত বছর চীনে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ডলার রপ্তানি হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরো গভীর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। ভারত মাঝে মাঝেই বিভিন্ন অজুহাতে তুলা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। দেশের বস্ত্রখাত হুমকির মধ্যে পড়ে। গত বছর বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাত এমন একটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে। চীন থেকে তুলা আমদানি বাড়ানো সম্ভব হলে ভারতের তুলার ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তৈরি পোশাক খাতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ফলে সেখানকার শ্রমঘন শিল্পগুলো লোকসানের মুখে পড়েছে। এতে চীনে ট্রাউজার, শার্ট, সুয়েটার, আন্ডার গার্মেন্টসের মতো কম মূল্য সংযোজিত পণ্য উত্পাদন কমে গেছে। কিন্তু এই গার্মেন্টেসের চাহিদা প্রচুর। বিশেষ করে নিম্নবিত্তের মানুষের জন্য। চীনের প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ এখনো নিম্নআয়ভোগী। এদের জন্য কম দামের তৈরি পোশাক প্রয়োজন। যা বাংলাদেশ রপ্তানি করতে পারে। এ বিশাল বাজারের চাহিদা মেটানোর সামর্থ্যও বাংলাদেশের আছে। বাংলাদেশে একজন শ্রমিকের মাসিক মজুরী ৪০ ডলার। চীনে তা ২০০ ডলার। এই পাঁচগুণ বেশি মজুরী দিয়ে পোশাক তৈরির চেয়ে আমদানি লাভজনক হবে। চীনের ব্যবসায়ী ও সরকার এমনটাই ভাবছে। তাই তারা বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি বাড়ানোর চিন্তা করছে। তাদের এ আগ্রহকে বাস্তবে রূপ দিতে কূটনৈতিক তত্পরতা ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন। গতানুগতিক চিন্তাধারায় এগুলে চলবে না। কারণ চীনের প্রতিবেশী কম্বোডিয়া, লাউস, ভিয়েতনাম অপেক্ষাকৃত কম দামে তৈরি পোশাক উত্পাদন করছে। তদুপরি আশিয়ানভুক্ত এ দেশগুলোর সাথে চীনের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এ চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক চীনের বাজারে বড় প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে। প্রতিযোগী দেশগুলো চীন থেকে বিনা শুল্কে তুলা ও বস্ত্র আমদানি করতে পারবে। অপরদিকে বাংলাদেশ তুলা, বস্ত্র ও মেশিনারী আমদানি করে তৈরি পোশাক বানিয়ে তা রপ্তানি করতে পারবে না। যদিও বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চীন বাংলাদেশের পণ্য কোডের ৯৫-৯৭ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশাধিকার দিতে রাজি হয়েছে এবং ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে কিছু কিছু পণ্য শুল্কমুক্তভাবে আমদানি শুরু করেছে। এ সুযোগটি তৈরি পোশাক খাতে পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারলে তা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে। পাট ও পাটজাতপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিরও উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে। চীনের আর্থ-সামাজিক উন্নতির সাথে সাথে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ইনস্যুলেটর হিসেবে পাটের ব্যবহার বেড়েছে। এছাড়া প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবেও পাটের চাহিদা বেড়েছে। চট ও বস্তারও প্রচুর চাহিদা আছে। ভারত, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ চীনের এ চাহিদার বড় অংশ পূরণ করছে। বাংলাদেশ আরেকটু তত্পর হলে পাটখাতের রপ্তানি অনেক বাড়াতে পারবে। কৃষিজাতপণ্য এবং অপ্রচলিত ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের পণ্য রপ্তানিরও প্রচুর সম্ভাবনা আছে। মোট কথা, শ্রমঘন সব শিল্পপণ্যেরই চীনে চাহিদা আছে এবং প্রতিবছরই তা বাড়ছে। বাংলাদেশ এ সুযোগটি নিতে পারে। এজন্য বাংলাদেশে ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। চীনের সাথে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্পর্কও ভাল। চীন দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের শিল্প, বিদ্যুত্, অবকাঠামো ও সেবাখাতে বিনিয়োগ করে আসছে। গত অক্টোবরে চীনের পলিটব্যুরোর সদস্য লি চেংচাং-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। এ সময় উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, বিদ্যুত্ ও আর্থিক সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। চীন বাংলাদেশের বিদ্যুত্, জ্বালানি, কৃষি ও অবকাঠামো খাতে আরো বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনকে এখন গার্মেন্টস খাতের বেকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, বড় বড় বিদ্যুত্ প্রকল্প বাস্তবায়ন, সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী করে তুলতে হবে। এতে উভয় দেশই লাভবান হবে। এজন্য চীনের সঙ্গে যোগাযোগ আরো বাড়াতে হবে। উভয় দেশের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধিদিল বিনিময় আরো বাড়াতো হবে। যাতে উভয় দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতি-নির্ধারকগণ একে অপরকে আরো গভীরভাবে জানতে ও বুঝতে পারে। এতে বাংলাদেশের ব্যাপক উদ্বৃত্ত জনশক্তির কর্মসংস্থান হবে। জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান বাড়বে। পাশাপাশি উত্পাদিত পণ্য আমদানি করে চীনও লাভবান হবে। এ উইন-উইন সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ককে একটি নতুন স্তরে উন্নীত করার সুযোগ এসেছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সারণী: বাংলাদেশ-চীন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য (কোটি ডলারে) বাংলাদেশ ২০০৭-০৮ ২০০৮-০৯ ২০০৯-১০ ২০১০-১১ ২০১১-২০১২ আমদানি ৩১৩.৬৬ ৩৪৫.১৪ ৩৮১.৯০ ৫৯১.৮০ ৬৪৫.৫০ রপ্তানি ১০.৬৯ ৯.৭১ ১৭.৮৬ ৩১.৯৭ ৪০.১৯ বাণিজ্য ঘাটতি ৩০২.৯৭ ৩৩৫.৪৩ ৩৬৪.০৪ ৫৫৯.৮৩ ৬০৫.৩১