নানা সমস্যায় লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা এবং সীমান্তবর্তী কাশিয়ানী ও মোহাম্মদপুর উপজেলার ৪ লক্ষাধিক মানুষের স্বল্প খরচে উন্নত চিকিত্সা পাওয়ার একমাত্র আশ্রয়স্থল লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু অবকাঠামোগত দুরবস্থা, চিকিত্সক ও ওষুধ সংকট, পানীয় জলের সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন নিজেই রোগী। প্রকাশ, বিগত সরকারের আমলে ২০০৭ সালে এ হাসপাতালটির বেড সংখ্যা ৩১ থেকে ৫০-এ উন্নীতের লক্ষ্যে একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৫ কোটি ২৫ লাখ ২৩ হাজার ৫৫৫ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০০৮ সালে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াহেদ ট্রেডার্স এ ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনটি বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও ভবনের বেজ ঢালাই দেয়ার পর ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাকি কাজ না করেই চলে যায়। এ নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানানো হলেও কোন কাজ হয়নি। বর্তমান হাসপাতাল ভবনটির অবস্থাও নাজুক। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। ভবনের অধিকাংশ জানালা ও দরজা ভাঙ্গা। ছাদ থেকে খসে খসে পড়ছে পলেস্তারা। এছাড়া ৯ জন চিকিত্সকের মঞ্জুরীকৃত পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৫ জন চিকিত্সক এবং একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক। এখানে জরুরি বিভাগের জন্য আলাদা কোন চিকিত্সকের পদ নেই। এখানে বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩ শতাধিক রোগী চিকিত্সা সেবা গ্রহণ করে থাকে। যে ৫জন চিকিত্সক এখানে কর্মরত আছেন তাদেরই নিয়মিত জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের কাজ করতে হচ্ছে। ফলে চিকিত্সকের অভাবে দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীরা। নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সামাদ জানান, লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণসহ এ হাসপাতালের সকল সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।