সমাজ বদলের আন্দোলনে হেমাঙ্গ বিশ্বাস পথপ্রদর্শক
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪১
রাষ্ট্র, সমাজ মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামোর বদলে দেবার আন্দোলনে হেমাঙ্গ বিশ্বাস আমাদের পথপ্রদর্শক। রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণের জন্য তিনি শিল্পের পথ বেছে নিয়েছিলেন। শ্রেণী বৈষম্য ভেঙে দিতে গণমানুষকে সচেতন করে তুলতে তিনি গণসঙ্গীতকে বেছে নিয়েছিলেন। তার আন্দোলন ছিল সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশবিরোধী বা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মত কোন খণ্ডিত আন্দোলন তিনি করেননি। উপমহাদেশের গণসঙ্গীতের পথিকৃত্ হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও গণসঙ্গীতের আসরের আয়োজন করে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও হেমাঙ্গ গবেষক ড. মাহফুজুর রহমান। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন হেমাঙ্গ বিশ্বাসের মেয়ে রঙিলী বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঋষিজের সভাপতি ফকির আলমগীর।
রঙিলী বিশ্বাস বলেন, হেমাঙ্গ বিশ্বাস বেঁচে আছেন এই বাংলাদেশে। এখানকার তরুণরা যেভাবে তার গানকে অবলম্বন করে গাইছেন এটা আমাকে অভিভূত করেছে। কলকাতায় হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান করেন তার ছাত্র-ছাত্রীরা। এছাড়া তার গান নিয়ে চর্চা তেমন একটা হয় না।
আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গণমানুষের গান। এতে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে উদীচী, ক্রান্তি, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, স্বভূমি, জাগরণ ও ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফকির আলমগীর। তাদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয়— ‘এই সমাধিতলে কত প্রাণপ্রদীপ জ্বলে’, ‘লঙর ছাড়িয়ে নাও এর দে দুঃখী নাইয়া’, ‘উই শ্যাল অভার কাম’, ‘নাম তার ছিল জন হেনরি’, ‘নিগ্রো ভাই আমার পল রবসন’, ‘বাঁচবো বাঁচবো রে আমরা’, ‘কাস্তেটারে দিও জোরে শান’, ‘কান্দে বাঙালি জননী ঢাকা শহরে’, ‘বাজে ক্ষুব্ধ ঈশানী ঝড়ে রুদ্র বিষ’, ‘হবিগঞ্জের জালালি কইতর সুনামগঞ্জের কুঁড়া’, ‘তোর মরা গাঙে এল বান’, ‘আরো বসন্ত বহু বসন্ত তোমার নামে আসুক’সহ বেশ কিছু গান।
কবিতার গানে স্বদেশ: স্বদেশ প্রেম রচিত হয়েছে বহু কবিতা। দেশের বরেণ্য কবিরা ছন্দে ছন্দে তুলে ধরেছেন স্বদেশের রূপবন্দনা। সেসব কবিতার কয়েকটি সুরারোপ করে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো ‘কবিতার গানে স্বদেশ’ শীর্ষক গীতিআলেখ্য। পরিবেশনায় ছিল সারগাম ললিতকলা একাডেমী। একুশের প্রথম কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীকে উত্সর্গ করা এ আলেখ্যের নির্দেশনা দিয়েছেন শাহীন সরদার।
শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমীর সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের নিয়মিত পাক্ষিক আয়োজনের অংশ হিসেবে এ আলেখ্যটি অনুষ্ঠিত হয়। নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ঐশিকা নদী, সিলমী সুবাহ্ করিম, জেসমিন নাহার মনি, জান্নাতি আশরাফ দীপা, কাজী মাহফুজা আক্তার রুমী, সরদার আফসারউদ্দিন, মোহাম্মদ সফর ও ‘সারগাম ললিতকলা একাডেমি’র শিল্পীরা।
ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশভিত্তিক ১৫টি কবিতা নিয়ে গীতিআলেখ্যটি পরিবেশিত হয়। এতে কবি জীবনানন্দ দাশ, জসীমউদ্দীন, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, মাহবুব উল আলম চৌধুরী, আসাদ চৌধুরী, রফিক আজাদ, সমুদ্র গুপ্ত, নাসির আহমেদ, শংকর সাঁওজাল, সুমন সরদার ও হাসান মাহমুদের কবিতা রয়েছে।
নাট্যভাবনা নিয়ে কর্মশালা:শিল্পকলা একাডেমীর ‘দেশজ সংস্কৃতির বিকাশ ও আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির সাথে মেলবন্ধন’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি জেলার স্থানীয় নাট্যকর্মীদের নিয়ে ‘স্বপ্ন ও দ্রোহের নাটক’ কেন্দ্রিক প্রযোজনা করতে যাচ্ছে। কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নকল্পে একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করেছে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক দেবপ্রসাদ দেবনাথ, একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সেক্রেটারি জেনারেল ঝুনা চৌধুরী ও একাডেমীর সচিব মনজুরুর রহমান।