কাজ শেষ না করেই ২৬ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে ঠিকাদার
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৯
চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিটিএমএস)-এর কাজ শেষ না হলেও ইতিমধ্যে ২৬ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে প্রকল্পটির ঠিকাদার সিঙ্গাপুর টেকনোলজি ইলেক্ট্রনিক-এসটিই। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটি বাকি টাকা ছাড়ের জন্য নানাভাবে তদ্বির করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে টেন্ডারের শর্তানুযায়ী কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় প্রকল্পটি তদন্তে দুইটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই প্রকল্পের বকেয়া টাকা ছাড় না করার সুপারিশ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটি।
চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনারসমূহ দ্রুত এবং নিশ্চিতভাবে বন্দর থেকে খালাস এবং পণ্যভর্তি কন্টেইনার বিদেশে রফতানির জন্য আধুনিক কন্টেইনার টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়। চার বছরের মেইন্টেনেন্সসহ এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। প্রকল্পটি চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এর বেশিরভাগ কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। কিন্তু মূল প্রকল্প ব্যয় ৪৩ কোটি টাকার মধ্যে ইতিমধ্যে ২৬ কোটি টাকা প্রকল্পের ঠিকাদার এসটিই নিয়ে গেছে। বাকি ১৭ কোটি টাকাও ছাড় করার জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে তদ্বির চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বন্দর সূত্র জানায়, এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থেকে দাবি করা হলেও ইতিমধ্যে অনেকগুলো বিষয়ে অনিয়ম ধরা পড়েছে। এমনকি সিটিএমএস সিস্টেমের কারণে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কাজ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কন্টেইনারের বিল করতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে বলে বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান। এর প্রেক্ষিতে বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ থেকে পূর্বের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কন্টেইনারসমূহের বিল করার সুপারিশ করা হয়েছে। তাছাড়া চুক্তি অনুযায়ী এসটিই সিটিএমএস প্রকল্পে যে সকল হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্কসহ অন্য যে সকল মডিউল সরবরাহ করার কথা তা এখনও সরবরাহ করেনি। এর প্রেক্ষিতে বন্দরের সিস্টেম এনালিস্টের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি পরিত্যক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয় দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে। একটি কমিটির আহবায়ক চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক নিরাপত্তা লে. কর্নেল মোয়াজ্জেম হোসেন প্রকল্পটি নিয়ে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন। এদিকে সিটিএমএস-এর প্রধান কাজ ছিল নেটওয়ার্কিং। কিন্তু বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও জেটিতে প্রায়শই নেটওয়ার্ক থাকে না। বন্দরের সিস্টেম এনালিস্ট সুফি মোহাম্মদ শোয়েব জানান, ঘরের মধ্যে নেটওয়ার্ক মোটেই থাকে না। বৃষ্টির দিন কোথাও নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। চুক্তি অনুযায়ী নেটওয়ার্কের জন্য ব্যবহূত ফাইবার অপটিক ক্যাবল ব্যবহূত হবে। কিন্তু দেয়া হয়েছে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং। চুক্তি অনুযায়ী সিস্টেমটি প্রতিদিনই চলার কথা। কিন্তু সাপ্লাইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ীই প্রায় ৯২ ঘণ্টা সিস্টেম ডাউন ছিল। চুক্তি অনুযায়ী ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এর শতাধিক নমুনা সরবরাহ করার কথা। কিন্তু মাত্র ৩০টি নমুনা সরবরাহ করা হলেও বিস্তারিত দেয়া হয়নি। এছাড়া সিটিএমএস-এর অন্যতম বিষয় হলো জাহাজের বার্থিং পদ্ধতি ও লেবার নির্ধারণ। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা চালু হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।