দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩০
খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। স্থবিরতা বিরাজ করছে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে। মহাজোট সরকারের প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গত চার বছরেও বাস্তবায়িত না হওয়ায় খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে তীব্র হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে সরকারের প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত না হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে এ অঞ্চলের বিশিষ্ট জনেরা মনে করছেন।
সরকারের দেয়া উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে মাওয়ায় পদ্মা সেতু, খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ, পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ, শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, খুলনায় আধুনিক রেল ভবন নির্মাণ, খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমী কমপ্লেক্স নির্মাণ, পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ চালু, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, আইটি ভিলেজ নির্মাণ, স্কুল ও কলেজ সরকারিকরণ, বন্ধ নিউজপ্রিন্ট মিল চালু ও মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন।
২০১১ সালের ৫ মার্চ নগরীর খালিশপুর প্রভাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। এছাড়াও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রতি দেয়া হয়। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের দেয়া ১৬টি প্রতিশ্রুতিও তত্কালীন সরকার বাস্তবায়িত করতে পারেনি। যার বিরূপ প্রভাব পড়ে গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনের পাঁচটিতেই পরাজিত হয় বিএনপি-জামায়াত জোট।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে অন্যতম সূচক হিসাবে বিবেচনা করা হয় মাওয়ায় পদ্মা সেতু নির্মাণ, কিন্তু মাঝপথে তা আটকে আছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। তবে এখনো পাইপ লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়নি। বর্তমানে শিল্প নগরী খুলনার বিদ্যুত্ নির্ভর যে শিল্প কল-কারখানাগুলো চালু আছে তা চলছে কোনমতে। আধুনিক রেলভবন নির্মাণ প্রকল্প পাস হচ্ছে শোনা গেলেও তার কোন অগ্রগতি নেই। একই অবস্থা খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমী কমপ্লেক্স নির্মাণের ক্ষেত্রেও। এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নাগরিকদের দাবি পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ টিও আজো চালু হয়নি। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও টেলিভিশন কেন্দ টি শুধু আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। নগরীর শিরোমণিতে আইটি ভিলেজ নির্মাণের কাজ চলছে ধীর গতিতে। নগরীর মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও মুহসিন উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত অজ্ঞাতকারণে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এছাড়া নগরীর খালিশপুর মুহসিন কলেজ ও রূপসা উপজেলার বঙ্গবন্ধু কলেজ সরকারিকরণের ঘোষণা দেয়া হলেও তা আজো বাস্তবায়িত হয়নি।
২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর তত্কালীন চারদলীয় জোট সরকার খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলটি বন্ধ করে দেয়। বর্তমান সরকারের আমলে এশিয়ার বৃহত্তম এ নিউজপ্রিন্ট মিলটি চালু করা হবে এমন প্রত্যাশা ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের। কিন্তু এ মিলটির চালুর স্বপ্ন আজো অধরাই রয়ে গেছে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, বর্তমান মহাজোট সরকারের কাছে এ অঞ্চলের মানুষের দাবি অন্যান্য যে কোন সময়ের সরকারের চেয়ে বেশি। কিন্তু গত চার বছরে সরকার এ অঞ্চলের মানুষের সে চাহিদা পূরণ করতে পারেনি।
খুলনা নাগরিক সমাজের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফিরোজ আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের দেয়া অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি প্রতিশ্রুতির মধ্যেই থেকে গেছে। তবে বাকি এক বছরে সরকার তার দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না তা তারাই জানেন। একই অভিমত ব্যক্ত করেন খুলনা নাগরিক সমাজের চেয়ারপার্সন মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল কাইয়ুম। তারা বলেন, সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আগামী নির্বাচনে তার বিরূপ প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে।
তবে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ বলেন, মহাজোট সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। যেগুলো বাকি আছে সেগুলোর কাজও শিগগির শুরু হবে। তিনি বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন হয়।