সেমিনারে বক্তারা

ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরবিট্রেশন বড় অবদান রাখবে

ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরবিট্রেশন বড় অবদান রাখতে পারে। আদালতে মামলা দায়ের করলে তা বছরের পর বছর ঝুলে থাকায় ন্যায়বিচার পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। এক্ষেত্রে আরবিট্রেশন সিস্টেম ব্যবসায়ীদের পছন্দনীয় হবে। দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় এর মাধ্যমে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশও উন্নত হবে। গতকাল সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আরবিট্রেশন ফর সেটেলমেন্ট অব বিজনেস ডিসপিউটস’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টার (বিআইএসি) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের। বিআইএসি’র সিইও ড. তৌফিক আলী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধান বিচারপতি তাফাজ্জল ইসলাম, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গার্বেন ডি জং, বিআইএসি’র চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু আহমেদ জমাদার ও ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আসিফ ইব্রাহিমসহ আরও অনেকে। বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের তার বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন ধরনের সঙ্কট সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ শতাংশ হারে আসছে। এর পেছনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্ব অনেক। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়াতে হলে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের আদালতে মামলা হলে অনেকদিন পর্যন্ত মামলার নিষ্পত্তি হয় না। তাই ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে আরবিট্রেশনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারেন। এতে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি ঘটবে। মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের রাজনীতিবিদরা সংলাপের মাধ্যমে ঐক্যে আসতে না পারলেও ব্যবসায়ীরা সংলাপের মাধ্যমে নিজেদের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারবেন বলেই আমি বিশ্বাস করি। আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু আহমেদ জমাদার বলেন, এ বছরের শুরুতে আদালতে প্রায় ২১ লাখ মামলা ঝুলে ছিল। বর্তমানে প্রায় ২৪ লাখ মামলা ঝুলে আছে। দিনে দিনে তা বাড়ছে। কিছু মামলা নিষ্পত্তিতে ৩০/৪০ বছরও সময় লেগে যায়। মামলা ঝুলে থাকায় দেশের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আটকে আছে উল্লেখ করে আবু আহমেদ জমাদার বলেন, ব্যবসায়িক বিরোধ সংক্রান্ত মামলাগুলো খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। আরবিট্রেশনের মাধ্যমে তা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। যুগ্ম সচিব আরও বলেন, শিগগিরই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় সিআরপিসি চালু করা হবে। এটা সফল হলে সারাদেশেই তা চালু করা হবে। নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গার্বেন ডি জং বলেন, নেদারল্যান্ডের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বৈদেশিক বাণিজ্যের উপর নির্ভশীল। অন্য দেশের সাথে বাণিজ্য করে অর্থনীতি এগিয়ে নিতে হলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে হয়। এক্ষেত্রে আরবিট্রেশন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মাহবুবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আদালতে মামলা অনেক বেশি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই তা নিষ্পত্তি হতে সময় লাগে। যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিআইএসি কাজ করে যাচ্ছে। যা ঢাকা চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বার ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারের উদ্যোগে ২০১০ সালে স্থাপিত হয়। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।